বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাত পোহালেই মেয়ের পরীক্ষা, পরীক্ষার আগের দিন বাবা নিজের ট্রলির চা পা য় নি হ ত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রদর্শক শহিদুল ইসলামের অ ব মা ন না য় উ ত্তা ল সাতক্ষীরা: মানববন্ধনের ঘোষণা পুলিশ সপ্তাহ -২০২৬ উপলক্ষে আইজিপি’র পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারকে উপহার প্রদান লিডার্সের আয়োজনে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও উপকারভোগীদের সংলাপ সাতক্ষীরার ধান বোঝাই ট্রলি উ ল্টে চালকের মৃ ত্যু দেশসেরা সুস্বাদু আমে সয়লাব সাতক্ষীরার বাজার: গোবিন্দভোগ প্রতিমণ ১৬০০ টাকা কালিগঞ্জে দুই এমপিকে সংবর্ধনা দিলেন শিমু রেজা এমপি কলেজ কর্তৃপক্ষ  লেখনী ও প্রকৃতিপ্রেমে অনন্য তারিক ইসলাম; গড়েছেন স্বতন্ত্র পরিচিতি সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি আব্দুল বারী’র মায়ের মৃত্যুত জেলা সাংবাদিক ফোরামের শোক 

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সাতক্ষীরার জরাজীর্ণ উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধের ৭টি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত

✍️রঘুনাথ খাঁ 📝জেষ্ঠ প্রতিবেদক☑️
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৪০ বার পড়া হয়েছে

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলে প্রবল জোয়ারের উত্তাল ঢেউয়ে জরাজীর্ণ উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধের অন্তত ৭টি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে উপকূল রক্ষা বাঁধের কয়েক ফুট। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শ্যামনগর অংশের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সরেজমিন বাঁধের ধসে যাওয়া অংশ পরির্দশন করেছেন। সেই সঙ্গে ধসে যাওয়া অংশে দ্রুত কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের তথ্যে জানা গেছে, সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের হরিশখালী, নাপিতখালী এবং বড় গাবুরা এলাকার বাঁধ ধসে গেছে। এসব এলাকার বাঁধের ওপর দিয়ে নির্মিত ইটের সোলিংকৃত সড়কের বেশরিভাগ পাশের খোলপেটুয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়া সীমান্তবর্তী কৈখালী ইউনিয়নের নৈকাটি, বিজিবি ক্যাম্পসহ আদম আলীর বাড়ি সংলগ্ন অংশে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধে ধস দেখা যায়। জোয়ারের পাশাপাশি ঢেউয়ের তীব্রতায় সোমবার বাঁধের এসব অংশ পাশের কালিন্দি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে ঘিরে থাকা বাঁধের অন্তত ৭টি অংশ নদীতে ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ১৫নং পোল্ডারের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে ধসে যাওয়া এসব জায়গাগুলো চিহ্নিত করেন। দু’দিনের টানা বৃষ্টির পাশাপাশি সোমবার সকালে জোয়ারের তীব্রতা বৃদ্ধিসহ ঝড়ো বাতাসের কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরার চারপাশের ঐ বাঁধে ধস নামে। সিত্রাং পরবর্তী বাঁধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যেয়ে বাধের এসব ধস চোখে পড়ে বলে পাউবো সুত্রের দাবি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, আগের দিন ঘটে যাওয়া সিত্রাং এর প্রভাবে শ্যামনগরের কোথাও বাঁধ না ভাঙলেও গাবুরার ৭টি পয়েন্টে ধস নেমেছে। বড় গাবুরাসহ নাপিতখালী, জেলেখালী, নেবুবুনিয়া এলাকার ধস ভয়ংকর পর্যায়ে পৌছেছে বলে তাদের দাবি।

পাউবোর শ্যামনগর অঞ্চলের সেকশন অফিসার সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, চতুর্পাশে নদী বেষ্টিত গাবুরা বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী প্রথম লোকালয়। জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড় সব সময় কমবেশী গাবুরাকে আঘাত করে। গাবুরার চতুর্পাশে ঘিরে থাকা বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার জায়গাজুড়ে (৭টি পয়েন্টে) নদীতে ধসে যাওয়ার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়ে প্রকল্প বরাদ্দ মোতাবেক দ্রুত এসব ধসে যাওয়া অংশ মেরামতে কাজ শুরু হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

এছাড়া আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাধের কমপক্ষে ১০টি পয়েন্ট নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে প্রতাপনগর ইউনিয়নের কয়েকটি পয়েন্টে ভেড়িবাঁধের ভাঙন প্রবল আকার ধারণ করেছে। উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাউনিয়ায় শ্রীপুর এলাকার বাঁধটি আগে থেকেই ভাঙছিল। সিত্রাংয়ের প্রভাবে কপোতাক্ষ নদের প্রবল স্রোতে ১০/১২ ফুট চওড়া বাঁধটি ভেঙে এখন মাত্র দেড় থেকে দুই ফুট অবশিষ্ট রয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে প্রতাপনগর ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত ও মাছের ঘের প্লাবিত হতে পারে। ইতোমধ্যে ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০০ মিটার দীর্ঘ কাজ মাত্র দুই মাস আগে যেনতেন উপায়ে সংস্কার করা হয়। সিত্রাংয়ের প্রভাবে প্রবল স্রোতে বাঁধটির ভাঙন প্রবল আকার ধারণ করেছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, ঘুর্ণিঝড়ম সিত্রাং এর প্রভাবে আশাশুনি, তালা ও কলারোয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে কোথাও কোন পানি লোকালয়ে ঢোকেনি। তবে আশাশুনির দু’একটি বেড়িবাঁধে আগে থেকে বেড়িবাঁধ দুর্বল থাকায় তা সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!