পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন দাবি করেন, ১ নভেম্বর মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিকদের ন্যায়সংগত আন্দোলনের মধ্যে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা ঢুকে সাধারণ শ্রমিকদের সংগঠিত করে মাঠে নামিয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের এক সমাবেশ ও মানববন্ধনে রাশেদ খাঁন এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের লোকজন শ্রমিকের ছদ্মবেশে পুলিশের গাড়ি, পিকআপ ও পোশাক কারখানায় আগুন দিয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া জামায়াত আমিরের উসকানিমূলক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন কি না। এছাড়া লংমার্চ থেকে সরকারের সবকিছু ভেঙে তছনছ করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেই দায় জামায়াত এড়াতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আর জামায়াত রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
শ্রমিকদের দাবি প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন জানান, তাদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এবং ডিসেম্বর থেকেই তা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের আবেগ ব্যবহার করে কেউ যাতে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে বা সহিংসতা না ছড়াতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা রাজপথে বিক্ষোভ করছেন। রবিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়ি এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও চন্দ্রায় পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় মিরপুরে ২৯ জন এবং গাজীপুরে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। বর্তমানে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের প্রায় ৩০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান পৃথক এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, মজুরি বাড়ানোর দাবিকে পুঁজি করে কেউ পোশাক শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। তিনি কোনো শ্রমিককে এসব সহিংসতায় জড়ানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন এবং দাবি করেন, ষড়যন্ত্রকারীরা পরিস্থিতি উসকে দিচ্ছে। তবে রাশেদ খাঁনের অভিযোগের বিষয়ে জামায়াত বা এনসিপি থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এরপর শ্রমিক আন্দোলনের নামে যে অরাজকতা ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে, তার দায় জামায়াত এড়াতে পারে না। কোনো শ্রমিক এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
সমাবেশটিতে পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। রাশেদ খাঁন একে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি চরম অসম্মান হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী ছিলেন মানিক পশারী। গত ২৪ অক্টোবর তার মরদেহ নিয়ে পিরোজপুরে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও দাফনের সময় জামায়াত নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে পুলিশি পাহারায় ও গার্ড অব অনার প্রদান শেষে রাত দুইটার দিকে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয় জামায়াত নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ঘটনাটি তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। জামায়াতের আমিরকে উসকানিদাতা হিসেবে আইনের আওতায় আনা উচিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। গত ২৪ অক্টোবর পিরোজপুরে তার মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানান ো ও দাফনে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। সমাবেশে রাশেদ খাঁন বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন দেশের প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষায়, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করা মানে পুরো মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করা।







