গাজী জাহিদুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরার তালায় কলেজছাত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ; সিআইডির ফরেনসিক তদন্ত প্রতিবেদনের পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তিনজনকে।
তালা উপজেলার সেনেরগাঁতী গ্রামের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় জাকির হোসেন, তাঁর বড় ভাই মো. ফারুক হোসেন ও ফারুকের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম আখির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটা থানাধীন এলাকার এক কলেজছাত্রী (ছদ্মনাম নীলা) এবং সেনেরগাঁতী গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে জাকির হোসেনের মধ্যে দীর্ঘ চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময় জাকিরের বড় ভাই মো. ফারুক হোসেন বিভিন্ন সময়ে নীলাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জাকিরকে জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো প্রতিবাদ করেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
পরবর্তী সময়ে পারিবারিক সমস্যার কথা বলে জাকির সম্পর্কের ইতি টানেন। এরপর ফারুক হোসেন নীলাকে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও পাঠাতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে জাকিরের কাছে সংরক্ষিত নীলার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জাকির, তাঁর বড় ভাই ও ভাবির বিরুদ্ধে। এমনকি ফারুকের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম আখি একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে নীলাকে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নীলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম এ্যালার্ট টিমের সহযোগিতা চান। সংগঠনটি তাঁকে মানসিক সহায়তা প্রদান করে এবং আইনি সহায়তার জন্য সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করতে সহযোগিতা করে। পরবর্তী সময়ে জেলা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে ৪ মে ২০২৫ তারিখে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী-৬ নম্বর আদালতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দেওয়া হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতে নারাজি আবেদন করেন ভুক্তভোগী। পরবর্তী সময়ে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-তে পাঠান। সিআইডির তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) অভিযুক্তরা আদালতে হাজির হলে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে, অনলাইনে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে কাউকে হুমকি, হয়রানি কিংবা ব্ল্যাকমেইল করা গুরুতর অপরাধ। ভুক্তভোগীদের ভয় বা সামাজিক লজ্জায় নীরব না থেকে আইনগত সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল।







