বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তালায় ওভিটি-হোপ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগে বাধ্য করতে চাপসৃষ্টির অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলার প্রতিবাদে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর ঝু ল ন্ত ম র দে হ উ দ্ধা র: দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা সাতক্ষীরার হিরো ডিলার কাশেম মোটরসের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সাতক্ষীরায় ৬ মাসের কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন যুবকদের মাঝে সনদ বিতরণ সাতক্ষীরায় টিসিবি পণ্যে বিতরণ অ নি য় ম ও জ ন দু র্ভো গে র অ ভি যো গ  তালা উপজেলায় গ্রাম আদালতের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মা ম লা ও হা ম লা র প্র তি বা দে তালায় মানববন্ধন  সাতক্ষীরা তালা পাটকেলঘাটার নগরঘাটায় দলীয় কার্যালয়ে আ গু ন, প্র তি বা দে নেতাকর্মীদের বি ক্ষো ভ

আইলার আঘাতের একযুগ পূর্তি আজ: সাতক্ষীরার উপকুল অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

রঘুনাথ খাঁ, জেষ্ঠ প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১
  • ১০১১ বার পড়া হয়েছে

ভয়ংকর আইলার দানবীয় আঘাতের পর এক যুগ পার হলেও রয়ে গেছে তার ক্ষত চিহ্ণ। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্থ সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুরের মানুষ ও আশাশুনির প্রতাপনগরের মানুষ। তাদের রাস্তা নির্মাণ হয়েছে, নতুন ঘর তৈরি হয়েছে। কিন্তু এলাকায় কৃষি নেই, চিংড়ি চাষেও মন্দা। কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধের অবস্থা নাজুক। এরপরও ২০১৯ সালে ফণি, গত বছর বুলবুল, আমফানের আঘাতে আবারো লণ্ডভণ্ড হওয়া সাতক্ষীরার উপকুলীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য ঘুর্ণিঝড় যশ আঘাত হানতে পারে এ আশঙ্কায় ওইসব জনপদে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও কর্মসংস্থান না থাকায় ওইসব ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এখন ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ভিন্ন জেলায়।

শ্যামনগর উপজেলার চারি ধারে নদী বেষ্টিত গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, ২০০৯ এর এই দিনে মাত্র তিরিশ মিনিটের তান্ডব বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দুটি ইউনিয়ন গাবুরা ও পদ্মপুকুর। এ ছাড়াও বিধ্বস্ত হয় আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন। ৩৬ টি গ্রামের ৭৩ টি জীবন মুহুর্তেই কেড়ে নিয়েছিল আইলা। নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ায় গৃহহীন হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল সড়ক ধারে ও উঁচু স্থানে । টানা দুই বছর তারা সেখানে কাটিয়ে অবশেষে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে ঘর বাড়ি পেয়েছেন তারা। কিন্তু এলাকায় কাজ না থাকা আর বারবার দুর্যোগের মুখে বসতি টিকছে না তাদের । কাজের খোঁজে বেরিয়ে যাচ্ছেন দুর্গত মানুষ। স্বাস্থ্য সেবার নাজুক অবস্থা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে। বেড়িবাধগুলো আশঙ্কাজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে নানা সমস্যা। সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট। রমজান মাসে তীব্র গরমে মানুষকে লবণাক্ত পানি পান করতে হয়েছে। সুপেয় পানির জন্য বরাদ্দকৃত জেলা পরিষদের পুকুরগুলি গত বছরের আমফানে ভেসে যাওয়ায় আজো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি।

গাবুরা ইউনিয়নের খলিষাবুনিয়া গ্রামের কৃষিজীবী আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, ২০০৯ সালে আইলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। সরকারিভাবে বাঁধ মেরামত করা হলেও তা মজবুত না হওয়ায় প্রতি জোয়ারে তাদের আতঙ্কে থাকতে হয় ।ঘুর্ণিঝড় আমফানের ভয়ে অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তারা ত্রাণ চান না, বেড়িবাঁধ চান।

চকবারা গ্রামের মফিজুল ইসলাম বলেন, আইলার আগে তাদের কৃষি জমি ছিল পাঁচ বিঘা। আইলা ও আমফানের পর কৃষি নেই। কাজ নেই। এখন সবই চিংড়ি ঘের। রাস্তাঘাট ও অব্দা ঝুঁকিপূর্ণ। ছয় মাস তিনি ইটভাটায় কাজ করেন। আর ছয় মাস বাড়িতে এসে কর্মহীন হয়ে অলস সময় পার করেন।

ডুমুরিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম, পাখিমারা গ্রামের ছখিনা বেগম ও গৃহবধু রিজিয়া বেগম বলেন,সাতক্ষীরার ছোট দ্বীপ গাবুরা। আইলার পর থেকে দূর থেকে পানি আনতে হয়। লবণ পানি সহ্য করতে না পেরে ডায়েরিয়া হয়। দুষিত পানিতে ঘা, পাচড়াসহ নানান চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। ডাক্তার নেই, নার্স নেই। ডাক্তার দেখানে অনেক দূরে শ্যামনগরে যেতে হয়। রাস্তা ভাল না হওয়ায় রোগী আধমরা হয়ে যায়।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ডালিম কুমার ঘরামী বলেন, ২০০৯ সালে আইলা পরবর্তী সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে তেমন কোন উদ্যোগ গৃহীত হয়নি। সাধারণ হত দরিদ্র মানুষ বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা, খুলনা ও যশোরে যেয়ে রিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। এ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হয়নি। চিকিৎসার জন্য ২৫ কিলোমিটার দূরে শ্যামনগরে যেতে হয়। বেড়িবাঁধের অবস্থা খারাপ। কয়েকবার মন্ত্রি এসেছে, সে অনুযায়ি কাজ হয়নি। সাধারণ মানুষ সুপেয় পানির জন্য হাহাকার করছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন,২০০৯ সালের ২৫ মে ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাস আইলার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা। ১৫ ফুট উচ্চতায় ধেঁয়ে আসা জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে সুন্দরবন উপকুলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায়। এসময় তিনটি ইউনিয়নের ৭৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হন। নিমিষেই গৃহহীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার পরিবার। ধ্বংস হয়ে যায় উপকুল রক্ষা বেড়িবাঁধ আর ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় স্বাস্থ্য,ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে ১৯ সালের ০৪ মে ফণি ও ২০২০ সালের ২ মে আমপানের আঘাতে আবারও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উপকূলীয় এলাকার লোকজন।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!