মিরপুর টেস্টে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ১০৬ রানের লিড নিয়ে কিছুটা স্বস্তির অবস্থানে রয়েছে। জাকের আলী ও নাঈম হাসানের ২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভর করে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতার কারণে এ দিনও নির্ধারিত সময়ের আগে খেলা শেষ ঘোষণা করতে হয়। বর্তমানে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ৭৯ রান সংগ্রহ করেছে এবং তাদের হাতে আছে আর মাত্র ৪ উইকেট। আলোক স্বল্পতায় আগেভাগে খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার সময়ে অবশ্য ওই অবস্থা থেকে কিছুটা স্বস্তির জায়গায় দল। মিরপুরে টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করাটা সহজ হবে না।
ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য হলো যতটা সম্ভব লিড বাড়িয়ে নেওয়া। নাঈম হাসান সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাদের মূল পরিকল্পনা হলো ২০০ রানের লিড সংগ্রহ করা, যা এই কঠিন উইকেটে জয়ের জন্য সহায়ক হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে উইকেট আছে, তাই আমরা চেষ্টা করব দীর্ঘ সময় টিকে থেকে লিড যতটা বাড়ানো সম্ভব। যদি আমরা ২০০ রান করতে পারি, তবে সেটি হবে দারুণ। চেষ্টা থাকবে এর চেয়েও বেশি রান করার।’ তবে ২০০ রান না হলে দেড় শ রানের কাছাকাছি লিড নিয়েও লড়াই সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে নাঈম ইতিবাচক মানসিকতার ওপর জোর দেন। ২০০ রান হলে খুবই ভালো হবে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যদি ২০০ রানের লিড না পায়, লিডটা দেড় শ বা এর আশেপাশে থাকলে জয় সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নও ছিল নাঈমের কাছে। তা এখানে কত রানের লক্ষ্য দিতে পারলে ম্যাচটা জিততে পারে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের লিডকে বড় হতে না দেওয়া। ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার জানান, চতুর্থ দিনের শুরুতেই জাকের ও নাঈমের জুটি ভেঙে দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নেওয়াই তাদের মূল পরিকল্পনা। রেইফারের মতে, বাংলাদেশ যদি ১৭৫ রানের লক্ষ্য দেয়, তবে তা এই উইকেটে তাড়া করা অসম্ভব হবে না। মিরপুরের পিচে বল ঘুরছে এবং নিচু হচ্ছে, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং।
ব্যাটিং কোচ আরও জানান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উইকেটের আচরণ অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে রান সংগ্রহের পথ খুঁজবে সফরকারীরা। রক্ষণাত্মক খেলার চেয়ে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখাই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রেইফার। তিনি বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব ওদের লেজ কাটতে চাই। যদি লক্ষ্য ১৭৫ রানের মধ্যে রাখা যায়, তবে সেটি তাড়া করার সামর্থ্য আমাদের আছে।’ সব মিলিয়ে মিরপুরের এই টেস্ট এখন এক রোমাঞ্চকর মোড় নিয়েছে, যেখানে স্পিনারদের সহায়তা পাওয়া উইকেটে দুই দলই নিজেদের জয়ের সুযোগ খুঁজছে। বাংলাদেশের যখন দুই শ রানের লক্ষ্য দেওয়ার ভাবনা, তখন তাদের এর আগেই আটকে রাখার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানের আউটেই হয়তো উইকেটের তেমন দায় নেই, তবে এটাও ঠিক—ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বল ঘুরছে, উইকেট স্পিনারদের সাহায্য করছে।










