জাতীয়

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

জাতীয় ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এরপর থেকে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। বায়েরার অনুমোদনের পরপরই চুল্লিতে পরমাণুর বিভাজন প্রক্রিয়া বা চেইন রিঅ্যাকশন শুরুর মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনের পথ প্রশস্ত হয়। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ পর্যায়ের কাজ সফলভাবে শেষ করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার মতো জটিল সব ধাপও অতিক্রম করেছে কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা মেনে রাশিয়ার সহযোগিতায় এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে চুল্লিটি ‘বি-২’ পর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই ধাপে চুল্লিটিকে পূর্ণমাত্রায় পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এরপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। যখন উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে, তখন তা জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।

একই সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের অগ্রগতিও চোখে পড়ার মতো। গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের লক্ষ্যেই মূলত এই সরবরাহ প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে রূপপুর প্রকল্পের কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।