সারাদেশ

গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে খেলার মাঠের জমি ক্রয়, উৎসবে বাবুপুর

 সারাদেশ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের মানুষ নিজেদের উদ্যোগে খেলার মাঠ তৈরির জন্য জমি কিনে নজির সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণের আনন্দ গতকাল বৃহস্পতিবার উৎসবের আমেজে উদ্‌যাপন করেছেন গ্রামবাসী। ধান কাটার পর ফসলের মাঠই ছিল শিশুদের একমাত্র খেলার জায়গা, যা আবাদের সময়ে বন্ধ হয়ে যেত। এই দুর্ভোগ ঘোচাতে ধনী-গরিব সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চাঁদা তুলে ৬০ শতাংশ জমি সংগ্রহ করেছেন। এর আগে অনেকবার এ গ্রামের মানুষ মাঠের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবুপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গ্রামের যুবকেরা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন অর্থদাতা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের। একদিন এই মাঠকে কেন্দ্র করেই গ্রামের ক্রীড়াচর্চা হবে।’। প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল মান্নান ব্যাপারী বলেন, ‘আমরা একটা মাঠের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। আজ আমাদের স্বপ্নের মাঠ বাস্তবায়ন হলো।

প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার অধ্যুষিত বাবুপুর গ্রামে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস, যাদের বড় একটি অংশই শিশু ও কিশোর। পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় দীর্ঘকাল ধরে তারা ক্রীড়াচর্চায় পিছিয়ে ছিল। একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়া গ্রামবাসীরা এবার এস এম ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে সফল হন। ইকবাল জানান, কয়েক মাস আগে ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলমের সঙ্গে পরামর্শ করে গত ৮ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা করা হয়। সেই সভায় সবাই জমি কেনার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে গ্রামবাসীকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময় সভা করি। এই গ্রামে গতকাল ছেলে–বুড়ো সবাই সারা দিন আনন্দে মেতেছিলেন।

জমি কেনার উদ্যোগে খোরশেদ আলম ও ইকবাল মাহমুদের পাশাপাশি আজাহার শিকদার, সেলিম আল মামুন, মিজানুর রহমান, মজনু শিকদার, শফিকুল ইসলাম ও শুভ প্রামাণিকের মতো বিত্তশালীরা বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া গ্রামের অন্য বাসিন্দারা সামর্থ্য অনুযায়ী ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দিয়েছেন। স্থানীয় ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা শতাংশ দরে ৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, বিক্রেতা ইকবাল হোসেন নিজেও ১ শতাংশ জমি দান করেছেন। গ্রামবাসী কেউ ২০০ টাকা, কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, কেউ কেউ তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী ২ হাজার, ৫ হাজার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেন।’। এ প্রস্তাবে উৎসাহ দেখান খোরশেদ আলম। গ্রামের সবার কাছেই জমি কেনার জন্য অর্থসহায়তা চাওয়া হয়। প্রতি শতাংশ জমির দাম ধরা হয় ৫২ হাজার টাকা করে।

বৃহস্পতিবার বাদ্য বাজিয়ে জমি বুঝে নেওয়ার সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং দিনব্যাপী গ্রামে আনন্দ উৎসব চলে। জমি কেনার অন্যতম উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম জানান, বর্তমানে ৬০ শতাংশ জমি কেনা হলেও পার্শ্ববর্তী আরও ৬০ শতাংশ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ১২০ শতাংশের একটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ তৈরি করা যায়। ভবিষ্যতে এই মাঠটি গ্রামের ক্রীড়াচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ১২০ শতাংশ জমি হলে ভালো মানের মাঠ হবে।

মাঠটি পেয়ে উচ্ছ্বসিত কিশোর হাবিবুল্লাহ সালমান ও রাব্বী জোহা জানায়, এখন বাড়ির আঙিনায় বা অন্যের ফসলি জমিতে না খেলে তারা নির্দিষ্ট মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারবে। মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল শিকদার মন্তব্য করেন, খেলার মাঠটি যুবকদের মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া স্থানীয় মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি এটিকে গ্রামের অনেক বড় প্রাপ্তি বলে অভিহিত করেন। সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাবুপুরের এই কার্যক্রম দেশের অন্যান্য গ্রামের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। পরে আমরা গ্রামের কয়েকজন বিত্তবান মানুষের সঙ্গে কথা বলি। অপর কিশোর রাব্বী জোহা বলে, ‘বাড়ির উঠানে খেলতে গেলে ফুটবলের আঘাতে ঘরের বেড়া ক্ষতি হতো।