জাতীয়

মানুষের অধিকার রক্ষার কাজ এখনো শেষ হয়নি: ড. কামাল হোসেন

জাতীয় ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘মানবাধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং ৭২-এর সংবিধানের মূলনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এই সভায় কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সানজিদ রহমান শুভ। সংবিধান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

কামাল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান জাতির সংগ্রামের ফসল। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শোষনমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল মানুষের।’ তিনি দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, লিঙ্গ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে যেকোনো বৈষম্য নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ ১৯৭২ সালের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য থেকে সরে না আসার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, দেশের বিরোধী দল মাঠপর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে এবং ছাত্রলীগকে পুনর্বহালের চেষ্টা করছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘বাংলাদেশকে রিসেট’ করার ধারণার সমালোচনা করে সুব্রত চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে ১৯৫২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসকে বাতিল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে মবতন্ত্র ও মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে, যা জাতির জন্য অশনিসংকেত। যদি মৌলবাদী গোষ্ঠী আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তবে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ‘বাংলাদেশকে রিসেট’ করার বক্তব্যের সমালোচনা করে সুব্রত চৌধুরী বলেন, “এর মধ্য দিয়ে ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের ইতিহাসকে বাতিল করার কথা বলা হয়েছিল।

উক্ত আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনদের মধ্যে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং আইনজীবী সারা হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী।