
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার হত্যা মামলার আসামী নিতাই চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মামলার এজাহারে তার নাম না থাকলেও তদন্তে সন্দেহের তালিকায় থাকায় তাকে ঘটনার ৮৮ দিন পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ‘২৭) রাত ১২টার পর কালিগঞ্জ ও পাইকগাছা থানা পুলিশের সহায়তায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির একটি মাছের ঘের থেকে নিতাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মামলার এক নম্বর আসামি আনন্দ কুমার সরকারের ছোট ভাই এবং নিহত সঞ্জিব কুমার সরকারের প্রতিবেশী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক আব্দুর রহিম এ প্রতিনিধিকে বলেন, নিতাইকে গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য তার রিমান্ড চাওয়া হবে। তবে নিতাইয়ের বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্য বা আলামত পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মামলার তদন্তকারী পুলিশ। সঞ্জিবের বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে ২ জুলাই কালিগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ১/১৪০। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় করা মামলায় আনন্দ সরকার (৫০), তার ছেলে তাপস সরকার ওরফে ডালিম (২৭), শাওন সরকার (১৯) ও নেপাল চন্দ্র সরকার (৫২)-এর নাম রয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নেপাল চন্দ্র সরকার হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার আগে ২৯ জুন সন্ধ্যায় সঞ্জিব তার বাবা গোপাল চন্দ্র সরকারের সঙ্গে ঠেকরা-রহিমপুর এলাকার একটি মাছের ঘেরে যান। বাবা বাড়িতে ফিরে এলেও সঞ্জিব ঘেরেই থেকে যান। পরদিন ৩০ জুন ভোরে ঘেরে গিয়ে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান গোপাল চন্দ্র সরকার। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা ও মাছের ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সঞ্জিবকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। নিতাইকে গ্রেপ্তারের পর তার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, ঘটনার সময় তিনি কোথায় ছিলেন এবং তার বিষয়ে তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।