
সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলার আরও ১৪টি মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে ‘২৬) বিকেলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচিত ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটিকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা (কর ও ভ্যাটসহ) প্রদান করা হয়েছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন ও মো. মহসিন আলী, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম বাবলা, কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাকিবুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
নতুন করে এই প্রকল্পের আওতায় আসা উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে তালার খলিলনগর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বালিকা বিদ্যালয়; কালীগঞ্জের ধলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়; দেবহাটার বহেরা দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসা এবং আশাশুনির বদরতলা যাদব চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
এছাড়াও কলারোয়া, শ্যামনগর ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দুটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলায় দুর্নীতি প্রতিরোধের এই অভিনব চর্চা বেশ আগে থেকেই জনপ্রিয়।
জেলা শিক্ষা অফিস জানায় জেলায় আগে থেকেই ৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুদকের অর্থায়নে সততা স্টোর সচল ছিল। নতুন ১৪টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে জেলায় মোট ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই স্টোর কার্যক্রম চালু হলো।
এটি এমন একটি দোকান যেখানে কোনো বিক্রেতা থাকে না। পণ্যের গায়ে দাম লেখা থাকে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় খাতা, কলম বা টিফিন কিনে নির্ধারিত বাক্সে নিজেরাই টাকা জমা রাখে। এর মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে সততার অভ্যাস গড়ে তোলা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এই ধরণের ‘বিক্রেতাহীন’ দোকান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই চর্চা ভবিষ্যতে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।