
সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ+আশাশুনি) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিনের সাথে সাক্ষাত অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত ডাঃ শহিদুল আলম।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর ‘২৫) সকালে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ঢাকাস্থ ডাঃ শহিদুল আলমের বাসায় যান। কিন্তু তিনি দীর্ঘক্ষণ তার বাসার ড্রয়িং রুমে অপেক্ষা করেও ডাঃ শহিদুল আলম তার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। যার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে।
সাতক্ষীরা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন তৃতীয় মাত্রাকে বলেন, কেন্দ্র থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আসছি। তারই ধারাবাহিকতায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আইউব হোসেন মুকুল প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন জানিয়েছেন।
ডাঃ শহিদুল আলমও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বিধায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় আমি তার বাড়িতে সশরীরে উপস্থিত হয়েছি এক সাথে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য। তিনি বাসায় থাকা সত্ত্বেও ড্রয়িং রুমে অপেক্ষা করেও আমি বিমুখ হয়েছি। তারপরেও তাকে সাথে নিয়েই আমি সাতক্ষীরা-৩ আসনের মাটি ও মানুষের সেবায় কাজ করবো। এই আসনের উন্নয়নের জন্য কাঁধে কাধ মিলিয়ে সকলকে সাথে নিয়েই এগিয়ে যাবো।
কাজী আলাউদ্দিন আরও জানান, গত ৪ নভেম্বর থেকে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ডাঃ শহিদুল আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন সাড়া পায়নি। এই আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা-বিভক্তি থেকে ঐক্য রাখতে ডাঃ শহিদুল আলমের সঙ্গে দেখা করতে আসি। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ডাঃ শহিদুল আলম দলের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে গত ৫ নভেম্বর থেকে লাগাতার আন্দোলন করছেন বলে তিনি এসময় মন্তব্য করেন।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক কাজী আলাউদ্দীনের কয়েকজন সমর্থক জানান, নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর ও ব্যবসায়ী মিলন নামের দুই ব্যক্তি মোটা অংকের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে গাড়ি যোগে মানুষ নিয়ে এসে কালিগঞ্জ ও আশাশুনিত প্রায় প্রতিদিন শহিদুল আলমের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করছেন। সম্প্রতি তাদের বিক্ষোভ মিছিল আসা মিনি ট্রাক ও কাভার ভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
তবে, এ ব্যাপারে ডাঃ শহিদুল আলমের কাছে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, কাজী আলাউদ্দীন সাহেব আমার অজ্ঞাতসারে ভিডিও করেছেন। এ ব্যাপারে পরে কথা বলবো।