
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের রহমানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর থেকে অভিযুক্তদের মধ্যে ‘গাত্রদাহ’ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি তড়িঘড়ি করে সাংবাদিক সম্মেলন করার পাশাপাশি অসম্পূর্ণ ও বিতর্কিত প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করেছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতিপূর্বে যেসব প্রকল্প সমাপ্ত দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল, সংবাদ প্রকাশের পর সেখানে তড়িঘড়ি করে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আগে কাজ শেষ না করেই টাকা পকেটে নেওয়া হয়েছিল। এখন পুনরায় কাজ শুরু করাই প্রমাণ করে যে, ইতিপূর্বে প্রকল্পগুলো ঘিরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং জনরোষ ও আইনি জটিলতা এড়াতে এখন লোক দেখানো সংস্কার করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখন প্রকাশ্য মুখ খুলছেন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও।
১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরিজুল ইসলাম গুরুতর অভিযোগ করে বলেন “চেয়ারম্যান আমাদের কোনো তোয়াক্কাই করেন না। আমাদের পাশ কাটিয়ে আমাদের নাম ব্যবহার করেই বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যার ভাগ আমরা বা জনগণ কেউ পাইনি।” একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহিলা মেম্বর জাহানারা খাতুন। তিনি বলেন “চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম একক আধিপত্য বজায় রেখে পরিষদের অর্থ লুটপাট করছেন। আমরা তার এই সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার আছি এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদ করেই যাবো।”
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম। সেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ এবং ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন। তবে প্রকল্পগুলোর অসম্পূর্ণ কাজ কেন হঠাৎ শুরু হলো, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন ও সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের পক্ষ থেকে তদন্ত চলমান থাকার কথা জানানো হলেও এলাকাবাসীর দাবি-তদন্ত যেন স্বচ্ছ হয়। সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারী ও ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টাকা উত্তোলনকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে মথুরেশপুরের সাধারণ মানুষ। উল্লেখ্য, স্বৈরাচারী শাসনের দাপট দেখিয়ে আওয়ামী লীগ ঘরানার এই চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম করে আসছেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে আসছেন।