
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় একজন মা তার পাঁচ দিনের নবজাতক কন্যাকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর ‘২৫) বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে কলারোয়ার ৯ নম্বর হেলাতলা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকালে শিশুটির পিতা ইব্রাহিম খলিল বাড়িতে ফিরে তার সন্তানকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় শিশুটির মা শারমিন সুলতানা অভিযোগ করেন যে, তার সন্তানকে কেউ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে।
সন্দেহজনক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইব্রাহিম খলিল কলারোয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করতে যান। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে যান এবং তদন্ত শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ইব্রাহিমের স্ত্রী শারমিন সুলতানা নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি তার কন্যা শিশুকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয় কাজিরহাট হাই স্কুলের পাশে খালের পানিতে কচুরিপানার মধ্যে থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় শিশুটির পিতা ইব্রাহিম খলিলের মা খাদিজা খাতুন বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তৃতীয় মাত্রাকে বলেন, “এ ঘটনায় শিশুটির মা শারমিন সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর ‘২৫) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
সামজিক ও পারিবারিক সহিংসতার এই ঘটনা সমাজে নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।