শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেবহাটার ডিআরআরএ এর উদ্যোগে দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ উদ্বোধন সাতক্ষীরায় হরিজন জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবী ‎ গোবিপ্রবি ও ঢাবির উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের মধ্যে গবেষণা সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর  সাতক্ষীরায় বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃ ত্যু সাতক্ষীরায় ভ্যান চু রি র সময় দুই যুবক আ ট ক, পুলিশে সো প র্দ আশাশুনির মাদ্রাসার মুহতামিমের বি রু দ্ধে মি থ্যে অ প প্র চা রে প্র তি বা দে সংবাদ সম্মেলন সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই বোতলজাত সোয়াবিন তেল খেতে হবে- ড. মোহাম্মদ শোয়েব প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপিকে দেখতে গেলেন  আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা শ্যামনগর থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাচারকালে জব্দকৃত ৫০ বস্তা শামুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত 

নিহত পুলিশ সদস্যের অসহায় পরিবারের বসতঘর উপহার দিলেন সাতক্ষীরার এসপি

শেখ আরিফুল ইসলাম আশা, নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৪২ বার পড়া হয়েছে

নিহত পুলিশ সদস্যের অসহায় পরিবারের জন্য বসতঘর উপহারদিয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান এর ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস। স্ট্যাটাসটি দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেশটাইমস deshtimes24.news এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলেধরা হলো।

“প্রতিশ্রুতি”ছোট্ট এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানায় কর্মরত এএসআই শাহ জামাল কয়েকদিন আগে দায়িত্বরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য বসবাস উপযোগী একটি বাসা তৈরি করতে পারেননি তিনি। একটি গোয়াল ঘরের একপাশে বৃদ্ধ বাবা-মা অন্য পাশে গৃহপালিত পশু থাকতো। মানবেতরভাবে জীবনযাপন চলছিল ওই পরিবার টির।
তার মৃত্যুর পর জেলা পুলিশ সদস্যগণ সেখানে তাকে সমাহিত করতে গিয়ে তাদের মানবেতর জীবনযাপন দেখে আমাকে বিষয়টি জানান। যা শুনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হই। অসহায় বাবা মায়ের বসবাস উপযোগী একটি বাসা তৈরি করতে পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বল্প সময়ের মধ্যে বাসাটি তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। তার বয়স্ক বাবা মা অফিসে দেখা করতে আসলে তাদের সার্বিক অবস্থা শুনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হই। অল্প সময়ের মধ্যে এই বয়স্ক বাবা মায়ের বসবাস উপযোগী বাসাটি জেলা পুলিশের অর্থায়নে তৈরি করি। তারা যেখানে বসবাস করতেন তা কোনোভাবেই একজন মানুষের বসবাস উপযোগী নয়। সন্তান হারানোর বেদনা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের চোখেমুখে হতাশা ও নিঃস্ব হয়ে যাবার দুশ্চিন্তা লাগবে জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে সামান্য ভূমিকা রাখার চেষ্টা করি।
আজ শাহ জামালের পরিবারের জন্য এই বাসাটি তৈরি করে দিতে পেরে নিজেকে কিছুটা হলেও হালকা মনে হচ্ছে। আমরা কত মানুষ কতভাবেই না জীবনকে উপভোগ করি কিন্তু কখনও খুঁজে দেখি না আমার পাশে থাকা মানুষদের অসহায়ত্ব।
শাহ জামালের বৃদ্ধ পিতা মাতার পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণ কতভাবেই না চিত্রায়িত হয় কিন্তু ভেতরের খবর কয়জনই বা রাখি। সন্তান হারানোর পর ও জেলা পুলিশের এই সামান্য কর্মে বৃদ্ধ বাবা-মা কিছুটা হলেও মনকে হালকা করতে পেরেছে । যদিও কোন কিছুর বিনিময় দিয়েই এই ক্ষতি পূরণ হবার নয়। পুলিশ বাহিনী যেকোনো প্রয়োজনে সকলের পাশে দাঁড়ায়। আমাদেরও দায়িত্ব তাদের ভালো-মন্দ দেখাশোনা করার। ছোট্ট বাসাটি হয়তো খুব বেশি কিছু নয় কিন্তু একজন সন্তান হিসেবে এই অসহায় বাবা মায়ের পাশে থাকতে পেরে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সবার বিপদে পাশে থাকার তৌফিক দান করুন।

মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার), পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!