শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় স্বদেশ এর আয়োজনে সিএসও নেটওয়ার্ক সদস্যদের সাথে ত্রৈ-মাসিক সমন্ময় সভা অনুষ্ঠিত  সাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ সাতক্ষীরার গোবরদাড়ি গ্রামে একজনকে কু পি য়ে হ ত্যা শিক্ষককে অ প মা নে র ঘটনায় নতুন বি ত র্ক: “ক্ষ মা কি আন্তরিক, নাকি সুবিধাবাদী পদক্ষেপ?” সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় জুলাই শহীদ স্মরণে গ্রামভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ অনুষ্ঠিত জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে শ্যামনগরে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক মুকসুদপুরে “স্বপ্ন সুপার শপ” এর উদ্বোধন করলেন সেলিমুজ্জামান সেলিম এমপি তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে শেখ রেজাউল ইসলাম কালিগঞ্জে জনকল্যাণ সংস্থার আয়োজনে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক অনুষ্ঠিত

দীর্ঘ আড়াই মাসের অনাবৃৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট

✍️রঘুনাথ খাঁ📝জেষ্ট প্রতিবেদক☑️
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ২৬৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ আড়াই মাসের অনাবৃৃষ্টিতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সাতক্ষীরায়। ভূ উপরিস্ত পানি শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভূ গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। তীব্র খরা, বৃষ্টিহীনতা ও পানিতে লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার জনজীবনে নাভিঃশ্বাস উঠেছে। বিপর্যয় দেখা দিয়েছে জীব বৈচিত্রে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৭০০ ফুট পর্যন্ত নেমে গেছে। তবে স্থান বিশেষে তা ৫০০ ফুট পর্যন্ত রয়েছে। ফলে জেলার ২৫ হাজার সরকারি টিউব অয়েলে পানি উঠছে না। এ ছাড়া পারিবারিকভাবে বসানো হাজার হাজার নলকূপেও পানি নেই। এমনকি সেচের পানি উত্তোলনও বাধার মুখে পড়ছে।

এদিকে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় গ্রাহকদের বাড়িতে পানি সরবরাহ বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। কিছু এলাকায় পানি গেলেও শহরের বেশীরভাগ এলাকাই পৌরসভার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব এলাকায় মানুষ ১২০০ ফুটেরও বেশী গভীর নলকূপ বসিয়ে নিজ নিজ পরিবারের পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন।

বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটা এলাকার সুকুমার সরকার ও শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের আবু আসলাম জানান, বার বার প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসায় তাদের এলাকায় বলজ ও ফলজ বৃক্ষ নেই বললেই চলে। বার বার বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় চিংড়ি চাষই এলাকার মানুষের শেষ অবলম্বন। দীর্ঘদিন পানি না হওয়ায় নদীর পানিতে বেড়েছে লবণাক্ততা। ফলে চিংড়ি চাষেও ধ্বস নেমেছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে জেলা পরিষদের পুকুর, সংরক্ষিত বৃষ্টির পানির আঁধার, পিএসএফ, গভীর ও অগভীর নলকুপের পানি খাওয়া যাচ্ছে না। তার দূল থেকে বেশি টাকা দিয়ে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তৈরি ফিল্টার প্লান্ট থেকে জারে করে পানি কিনতে হচ্ছে। অনেকেই প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। তবে সবচেয়ে বিপর্যয়ে পড়েছে গবাদি পশু।

জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, জেলার প্রায় ২৫ লাখ জনগোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশ মানুষের খাবার পানি সরবরাহ করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। কিন্তু পানির স্তর নেমে যাওয়ায় মানুষ খাবার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারিভাবে জেলায় ১১৫টি পিএসএফ (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) বসানো রয়েছে। ভূ উপরিস্থ পানি নিয়ে তা শোধনের মাধ্যমে পরিবারগুলিতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অথচ ভূ উপরিস্থ এসব পানিও এখন অনেক কমে গেছে। ফলে কোন কোন জায়গায় পিএসএফ যথাযথভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি জানান, বেসরকারি পর্যায়ে সাতক্ষীরার কয়েকটি এনজিও বিভিন্ন স্থানে এসব পিএসএফ বসিয়েছে। সেখানেও দেখা দিয়েছে একই সংকট।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ আরও জানিয়েছে, বৃষ্টি না হওয়ায় পানি যেমন অনেক নীচে নেমে গেছে তেমনি পানিতে লবণাক্ততাও মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী পানিতে সর্বোচ্চ ২৬০০ এমজি পার লিটার লবনাক্ততা পাওয়া গেছে। উপকূলীয় এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা ১০০০ এমজি পার লিটার। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় এই পানির গ্রহণযোগ্যতা সর্বোচ্চ ৬০০ এমজি পার লিটার। পানিতে অতিমাত্রায় লবণাক্ততার কারণে উপকূলের লোকজন মিষ্টি পানির খোঁজে অনেকদূর ছুটছে। কিন্তু কোথাও পানি পাচ্ছে না।

এছাড়া শ্যামনগর, আশাশুনি এবং কয়রা এলাকাজুড়ে গ্রামবাসী বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সারাবছর তা পান করে থাকেন। এবার সেসব পানিতে এরই মধ্যে গ্যাস এবং পোকা দেখা দিয়েছে। ফলে সে পানিও তারা খেতে পারছে না। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পরিষদের ৫৭টি সরকারি পুকুর এবং কোন কোন স্থানের বেসরকারি পর্যায়ের পুকুরে পানি রিজার্ভ করে তা গ্রামবাসী খাবার পানি হিসাবে ব্যবহার করছেন। এইসব পুকুরে গবাদি পশু নামতে দেওয়া হয় না।

এমনকি থালাবাসন ধোয়া ও গোসল করাও নিষিদ্ধ। কেবলমাত্র পানি তুলে নিয়ে তা ঘরে ঘরে শোধন করে ব্যবহার করা হচ্ছে। পানি সংকটের এই সুযোগে শহর ও গ্রামাঞ্চলের বেশ কিছু পানি ব্যবসায়ী শোধনাগার প্ল্যান্ট বসিয়ে অনুমোদন ছাড়াই ভূগর্ভস্থ পানি তুলে তা বিক্রি করছে। এই পানি সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এমন অবস্থায় সাতক্ষীরা সহ উপকূলীয় জেলাগুলির কয়েক লাখ মানুষ তীব্র পানির সংকটের মুখে পড়েছে। একইসাথে জীব বৈচিত্রে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তারা জানান, বৃষ্টি নামলে এ অবস্থার উন্নতি হতে পারে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!