শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ভর্তি তালায় উপকারভোগীদের সাথে সরকারি দপ্তরসমূহের পরিচিতি সভা  ডুমুরিয়ায় হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের সনদ প্রদান  সাতক্ষীরায় পৌরসভার অ বৈ ধ উ চ্ছে দ অ ভি যা ন বি পু ল অ স্ত্র-গো লা বা রু দসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বা হি নী র ১২ ডা কা তে র আ ত্ম স ম র্প ণ সাতক্ষীরার দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ কলারোয়ায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে গাজর চারা বিতরণ করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত দেবহাটায় সোনালু বাগান উদ্বোধন করলেন ডিসি কাউসার আজিজ  সাতক্ষীরায় প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল ও সুযোগ’ বিষয়ক পরামর্শ সভা

বি পু ল অ স্ত্র-গো লা বা রু দসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বা হি নী র ১২ ডা কা তে র আ ত্ম স ম র্প ণ

✍️গাজী হাবিব📝নিজস্ব প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা ও ফাঁকা কার্তুজ, পিস্তলের গুলি, এয়ারগানের গোলা, ম্যাগাজিন ও ছয়টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ‘২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দস্যুরা তাদের আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

এরই মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান জমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ৮ মি.মি. পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।

অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।

জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়াসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!