
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নলতা আহছানিয়া মিশনে দেশের বৃহত্তম ও বিশ্বেও দ্বিতীয় বৃহত্তম ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। টানা ৭৫ বছর ধরে চলছে এই আয়োজন। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও রমজানের শুরু থেকে বৃহত্তম এই ইফতার জমায়েত শুরু হয়েছে। চলবে পুরা মাসজুড়ে।
প্রতিদিন এখানে প্রায় ছয়হাজার রোজাদার একত্রে বসে ইফতার করেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সওয়াব হাসিলের আশায় এই ইফতার মাহফিলে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নলতা শরীফেআসেন রোজাদাররা। ধনী, গরীব ভেদাভেদ ভুলে এককাতারে বসে ইফতার করেন এখানে।
নলতা আহছানিয়া মিশনের যুগ্ম সম্পাদকডা. নজরুল ইসলাম বলেন, পীরে কামেল খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) ১৯৩৫ খ্রীস্টাব্দে নিজহাতে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই মিশনের উদ্যোগে ১৯৫০ সাল থেকে তিনি প্রতি বছর রমজান উপলক্ষে মাসব্যাপী এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন শুরু করেন।দিনেদিনে এই ইফতার মাহফিলের পরিধি বেড়ে যায়। সেই তকেটানা ৭৫ বছর ধরে রমজান মাসে ইফতারের আয়োজন করে আসছে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন। ইফতার মাহফিলে সকলে একত্রে বসার জন্য আহছানউল্লা (র.) এঁর মাজার প্রাঙ্গনে অস্থায়ভাবে বিশাল টিনের ছাউনি নির্মান করা হয়।
তিনি বলেন, এখানে ইফতার সামগ্রী বিতরণের জন্য রয়েছে আড়াই শত স্বেচ্ছাসেবক। সবাই এসেছেন নিজ উদ্যোগে। আছরের নামাজের পর থেকে ইফতার সাজানোর কাজ শুরু করেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, তাঁরা চেষ্টা করেন, যাতে ইফতার করতে আসা রোজাদারদের কোনো অসুবিধা না হয়। প্রথমে ছাউনির নিচে মাদুর বিছানো হয়। তারপর সারি সারি লাইন করে পানির বোতল দেয়া হয়। তারপর গ্লাসপ্লেট। সাড়ে পাঁচটার পরপরই ইফতার মাহফিল মাঠ ভরে যায়।
নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের অপর যুগ্ম-সম্পাদক আমজাদ চৌধুরী বলেন, এখানে ইফতারের তালিকায় বরাবরের মত রাখা হয় ফিরনি, ডিম, ছোলা ভূনা, খেজুর, সিঙ্গাড়া ও কলা। প্রতিদিন ১৫ মন দুধের ফিরনি তৈরি করা হয় এখানে।মাঠে ছয় হাজার ইফতারের পাশাপশি নলতা শরীফের আশপাশের এলাকার মসজিদ ও অনেকের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয় আরও এক থেকে দেড় হাজার রোজাদারের ইফতার। এখানে সুপেয় পানির বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। দেশ-বিদেশের ভক্তগণ যৌথভাবে এই ইফতারের অর্থ যোগান দিয়ে থাকেন বলে জানান তিনি। এখানে ইফতারের পূর্বে প্রতিদিন ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা দেশ ও জাতির কল্যাণে একাসাথে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। বিশাল এই প্রাঙ্গনে ইফতার শেষে আদায় করা হয় মাগরিবের নামাজ।