মোঃ হাফিজুর রহমান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে লোকাল বাস ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাগর আলি (৫০) নামে এক ইজিবাইক চালক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বংশীপুর এলাকায় সোনার মোড় মৎস্য আড়তের পাশে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত সাগর আলি শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের শওকত আলির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে প্রতিদিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে সড়কে বের হন সাগর আলি। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বংশীপুর এলাকার সোনার মোড় মৎস্য আড়তের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ভেটখালি থেকে ছেড়ে আসা শ্যামনগর-কালীগঞ্জগামী একটি লোকাল বাসের সঙ্গে তাঁর ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সংঘর্ষের পর ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের চাকা চালক সাগর আলির মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি ঘটনাস্থলে না থেমে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। ফলে বাসটির পরিচয় ও চালকের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। একজন মানুষের প্রাণহানির পর বাসটি এভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। বাসটি শনাক্ত করার পাশাপাশি চালককে আটকের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, ভোরের ব্যস্ত সময়ে এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সড়কে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল, অসতর্কতা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।
একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঘাতক বাসটি শনাক্ত করে চালককে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সড়কে আর কোনো প্রাণ যেন এভাবে ঝরে না যায়—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় এলাকাবাসীর।











