সারাদেশ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় দৈনিক অভয়নগরের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

Desh Times 24
Desh Times 24  সারাদেশ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার
মোঃ হাফিজুর রহমান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক:
সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভালোবাসা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং সাংবাদিকতার নতুন প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তিন বছরের সাফল্য, অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানী ঢাকায় আয়োজন করা হয় এক জমকালো অনুষ্ঠানের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সাংবাদিক, প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট অতিথি, শুভানুধ্যায়ী ও সুধীজনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংবাদিক মিলনমেলায়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর সোবহানবাগ, ধানমন্ডি-২৭ এলাকার ড্যাফোডিল প্লাজার নবম তলায় দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্ণিল সাজসজ্জা, উৎসবমুখর পরিবেশ, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় পত্রিকাটির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সংবাদকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে পুনর্মিলন, নতুন পরিচয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে দিনটি অংশগ্রহণকারীদের কাছে হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
মো. ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় দৈনিক অভয়নগরের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. শাহিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও নোয়াপাড়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ফাইজুর রহমান বকুল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর ফাইন আর্ট কলেজের প্রভাষক ও শিল্পী সঞ্জীবন লহরী, তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, তেজগাঁও থানা ও শিল্পকলা থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, সোনারগাঁ থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান।
জাতীয় দৈনিক অভয়নগরের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপসম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, বার্তা সম্পাদক রবিউল ইসলাম এবং সহ-মফস্বল সম্পাদক সাদিয়া হক।
এ ছাড়া প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এস এম উজ্জ্বল হোসেন, উপসম্পাদক ফারুক শেখ, প্রধান প্রতিবেদক (চিফ রিপোর্টার) ইসমাইল হোসেন এবং মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ দীপক কুমার ধর। পুরো আয়োজনের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে ছিলেন ৭১ মিডিয়া ভিশনের সিইও ও পত্রিকার বিনোদন সম্পাদক আর কে রিপনসহ সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাংবাদিকতার গুণগত মানোন্নয়নে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার। কর্মশালায় সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই-বাছাই, ঘটনার গভীরে গিয়ে অনুসন্ধান, সংবাদ লেখার কাঠামো, আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল শিরোনাম তৈরি, ভাষার শুদ্ধতা, সংবাদ সম্পাদনা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সংবাদ তৈরির বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে কোনো ঘটনা সংবাদ হিসেবে প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিহার করা এবং নিরপেক্ষভাবে সংবাদ উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশিক্ষকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন সাংবাদিকের প্রধান শক্তি হচ্ছে তাঁর সততা, পেশাগত দক্ষতা, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধ। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা কোনো পক্ষের প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। সাংবাদিকতার মান ধরে রাখতে নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা অর্জনেরও বিকল্প নেই।
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অংশগ্রহণকারী সংবাদকর্মীদের জন্য ছিল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এতে তাঁদের মধ্যে নতুন করে পেশাগত দায়িত্ববোধ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আরও মানসম্মত সংবাদ পরিবেশনের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে সাংবাদিকতার বর্তমান বাস্তবতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি সংবাদমাধ্যমের দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, সংবাদপত্র শুধু খবর প্রকাশের একটি মাধ্যম নয়; এটি সমাজের দর্পণ, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম সমাজের অসংগতি, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অনিয়ম তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাঁরা আরও বলেন, সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে পাঠকের বিশ্বাস ও আস্থা। এই আস্থা অর্জন করতে হলে সংবাদ পরিবেশনে সততা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের চাপ, প্রলোভন কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের কাছে নতিস্বীকার না করে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।
বক্তারা জাতীয় দৈনিক অভয়নগরের তিন বছরের পথচলার প্রশংসা করে বলেন, একটি গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রায় সম্পাদক থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধি পর্যন্ত সবার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পেশাগত দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়েই একটি সংবাদমাধ্যম পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অন্যতম আকর্ষণীয় ও আবেগঘন আয়োজন ছিল সারাদেশে কর্মরত জাতীয় দৈনিক অভয়নগরের সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের সম্মাননা প্রদান। পত্রিকার অগ্রযাত্রায় তাঁদের নিরলস শ্রম, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে অতিথিদের হাত দিয়ে প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক, টি-শার্টসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী।
সম্মাননা প্রদান পর্বে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও আবেগময় পরিবেশ। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সংবাদকর্মীরা নিজেদের কাজের স্বীকৃতি পেয়ে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেন। তাঁদের কাছে এই সম্মাননা ছিল শুধু একটি স্মারক বা উপহার নয়; বরং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহ, ভালোবাসা ও স্বীকৃতির প্রতীক।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত প্রতিনিধিরাই একটি সংবাদপত্রের সংবাদ সংগ্রহের প্রধান শক্তি। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনপদের সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। তাই মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও উৎসাহিত করার এই উদ্যোগকে উপস্থিত অতিথিরা ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি হয়ে ওঠে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ, সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ।
বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত সংবাদকর্মীরা দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পান। নিজেদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ, সফলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা মতবিনিময় করেন। নতুন ও পুরোনো সহকর্মীদের মধ্যে গড়ে ওঠে আন্তরিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, একটি সংবাদমাধ্যমের শক্তি কেবল তার সম্পাদকীয় নীতি বা প্রকাশিত সংবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সংবাদকর্মীর আন্তরিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রতিষ্ঠানটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই জায়গা থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানকে আরও বর্ণিল ও উপভোগ্য করে তুলতে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। সুর, ছন্দ ও আনন্দের আবেশে অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অতিথি, সাংবাদিক ও প্রতিনিধিরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল মধ্যাহ্নভোজসহ আপ্যায়নের সুব্যবস্থা।
প্রশিক্ষণ কর্মশালা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আন্তরিক আপ্যায়ন—প্রতিটি পর্বেই আয়োজকদের পরিকল্পনা, আন্তরিকতা ও সুসমন্বয়ের প্রতিফলন ঘটে। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য, হাসি-আনন্দ এবং ভালোবাসার এক অনন্য পরিবেশ।
একটি সংবাদপত্রের তিন বছরের পথচলা কখনোই সহজ নয়। নানা প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা, প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমকে এগিয়ে নিতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন সাহসী নেতৃত্ব, দক্ষ সংবাদকর্মী, দায়িত্বশীল সম্পাদনা এবং পাঠকের প্রতি দায়বদ্ধতা।
জাতীয় দৈনিক অভয়নগরের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সেই দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সম্পাদক ও প্রকাশক মো. শাহিন আহমেদের নেতৃত্বে পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক, প্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আয়োজন বাস্তবায়িত হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত সংবাদকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের জন্য আরও সুসংগঠিত ও মানসম্মত সাংবাদিকতার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
একটি সংবাদপত্রের প্রকৃত সাফল্য শুধু নিয়মিত প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পাঠকের বিশ্বাস অর্জন, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, জনস্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা এবং সমাজের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মধ্যেই তার প্রকৃত সার্থকতা।
তিন বছরের এই পথচলায় অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় দৈনিক অভয়নগর আগামী দিনে আরও গতিশীল, আধুনিক ও পাঠকবান্ধব সংবাদমাধ্যম হিসেবে এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীরা।
তাঁরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে যেমন রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ, তেমনি রয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। ডিজিটাল সাংবাদিকতা, মাল্টিমিডিয়া সংবাদ পরিবেশন, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ এবং পাঠকের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সংবাদকর্মীদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনে নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা এবং বস্তুনিষ্ঠতার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।
জাতীয় দৈনিক অভয়নগর আগামী দিনে সত্যের পক্ষে, মানুষের কল্যাণে এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
দিনশেষে জাতীয় দৈনিক অভয়নগরের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন হয়ে ওঠে এক মধুর স্মৃতি, সৌহার্দ্যের বন্ধন এবং আগামীর পথচলার নতুন অনুপ্রেরণা। রাজধানীর বুকে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য মিলনমেলা আবারও প্রমাণ করে, একটি সংবাদপত্রের প্রকৃত শক্তি শুধু তার প্রকাশিত সংবাদে নয়; বরং এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষের শ্রম, নিষ্ঠা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত প্রত্যয়ের মধ্যেই নিহিত।
তৃতীয় বর্ষপূর্তির এই আনন্দঘন মুহূর্তে জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পরিবারের প্রত্যেক সদস্য, দেশজুড়ে কর্মরত সাংবাদিক ও প্রতিনিধি, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
সত্যের সন্ধানে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, মানুষের অধিকার ও কল্যাণে এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দীপ্ত অঙ্গীকারে জাতীয় দৈনিক অভয়নগরের পথচলা হোক আরও সুদীর্ঘ, সমৃদ্ধ, সাহসী ও আলোকোজ্জ্বল—এই প্রত্যাশাই রইল তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজন থেকে।