শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ঐতিহ্যবাহী গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সক্রিয় হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেদখল প্রক্রিয়া এবং মাঠে এশিয়া প্যাসিফিক বাণিজ্য মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাতাত্তর ঘণ্টা বা তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাঠ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের চিত্র
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিশাল গণজমায়েত করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি পতাকাতলা থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে মাঠে অবস্থান গ্রহণ করেন। ওই স্থানে চলমান মাটি পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজ শিক্ষার্থীরা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বসানো সাইনবোর্ড ভেঙে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন। একইসাথে, মাঠ থেকে সয়েল টেস্টের নমুনা সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত দুটি যানবাহনও তারা ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যান।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ
- শিক্ষার্থীরা প্রতীকীভাবে প্রশাসনিক ভবন গণপূর্তের অধীনে বলে ঘোষণা করে প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতার তীব্র নিন্দা জানান।
- আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ বলেন, চোখের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি হাতছাড়া হচ্ছে অথচ প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
- স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার জানিয়েছেন, গবেষণা মাঠ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
- কমিটির আহ্বায়ক ড. সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, তাদের সিদ্ধান্তের কথা বারবার জানানো হলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
প্রশাসন ও মেলা আয়োজকদের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, মাঠ সংক্রান্ত গঠিত কমিটি এবং আইনি পরামর্শকদের সাথে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, মেলা কমিটির দাবি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের যথাযথ অনুমতি নিয়েই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং ইতিমধ্যে মেলার প্রায় ৮০ শতাংশ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মেলা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করলেও শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের আপস করতে নারাজ।
পূর্বের আন্দোলন ও স্মারকলিপি
গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের এই দাবি নতুন নয়। গত ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছিলেন। সে সময় অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে মাঠ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা কার্যক্রমের প্রয়োজনে মাঠটি দ্রুত উদ্ধার করা অনিবার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









