শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন  তালার ফুলবাড়ী সেলুন দোকানের মোটরসাইকেল চু রি সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বীজ ও সার বিতরণ দেবহাটায় ১,০৩৫ বোতল ফে ন্সি ডি ল স হ মা দ ক ব্যবসায়ি আ ট ক সরকারি সম্পদ নিজের সম্পদ মনে করে সংরক্ষণ করতে হবে: সাংসদ মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক জলবায়ু সাংবাদিকতায় ‘হেড ক্লাইমেট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা, ৩০ জুলাই পর্যন্ত সংবাদ ও ডকুমেন্টরি জমার আহ্বান সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের প্রথম সভা ফলোআপ: কালিগঞ্জে ঘের ব্যবসায়ি সঞ্জীব সরকার হ ত্যা! থানায় মা ম লা, গ্রে প্তা র -১ ডুমুরিয়ায় মাছের ঘেরে বি লী ন সড়ক, জন দূ র্ভো গ চরমে গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হ ত্যা র প্র তি বা দে শ্যামনগরে বি ক্ষো ভ মি ছি ল

আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর বেঁড়িবাঁধ মেরামতের সময় জোয়ারে আবারও ভেঙ্গে নতুন এলাকা প্লাবিত

রঘুনাথ খাঁ, জেষ্ঠ প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১
  • ১২৩৭ বার পড়া হয়েছে

গত বছরের ২০ মে মাসে ঘুর্ণিঝড় আম্ফান ও ২২ আগষ্ট খোলপেটুয়া নদীর জলাছ্বাসে সাতক্ষীরার আশাশুনি সদর ইউনিয়নের দেয়ারঘাট গ্রামের বিধবা কমলা দাসীর শেষ সম্বল বাসস্থানটুকু বিলিন হয়েছে নদীগর্ভে। এরপর থেকে বাসা রিংবাঁধ এর উপর। মঙ্গলবার দুপুরে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের তোড়ে রিং বাঁধ এর কিছু অংশ ভেঙ্গে তিন গ্রাম প্লাবিত হয়। এরপরও কোন রকম তিনি আশ্রয়টুকু টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিকালের পরিবর্তে বুধবার ওই বাঁধ সংস্কার করতে যেয়ৈ দুপুরের জোয়ারে রিং বাঁধের ভাঙন বেড়ে তাকেও ঘর ছাড়তে হয়েছে। এখন তিনি সমীর রায় এর বাড়ির সামনে বেড়িবাঁধের উপর আবারো খুপড়ি ঘর বেঁধে কোন রকম জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছেন।

একইভাবে কমলা দাসীর মত আম্পানে আশ্রয় হারিয়ে পাশাপাশি রিং বাঁধ এর উপর বসবাসকারি হরিপদ বিশ্বাস বলেন, যাওয়ার কোন জায়গা নেই। সরকারের কোন কর্মকর্তা খোঁজ নেয়নি গত নয় মাসে। বাঁধ ভাঙলে আমাদের কপাল পুড়লেও ভাগ্য খোলে চেয়ারম্যান, মেম্বর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের। কমলা দাসীর মত তিনিও নতুন করে বেড়িবাঁধে ঘর বানিয়ে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছেন।

কমলা, হরিপদ বিশ্বাস এর মত রিং বাঁধ এর উপর নির্মিত ঘর ভেসে যাওয়া ডাঃ মিলন বিশ্বাস, নির্মল মন্ডল, মণিরাম মন্ডল, দূঃখীরাম মন্ডল একই সুরে বলেন, দেয়ারঘাটটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় তাদের অংশ নদী বাঁধ সংস্কার গড়িমসি নতুন কিছু নয়। অথচ তাদের বিপরীত পাড় নদীবাঁধ যথারীতি সংস্কার হয়েছে। তাই বর্তমানে তাদের গ্রামে আর ১১টি হিন্দু পরিবার রয়েছে। তার মধ্যে তারা ছয়টি পরিবার হারিয়েছেন সর্বস্ব। অন্যরা হারানোর অপেক্ষায়।

সরজমিনে বুধবার দুপুরৈ সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা সদর ইউনিয়নের দেয়ারঘাটৈ গেলে এভাবে আর্তি জানান আশ্রয়হীন হয়ৈ পড়া ছয়টি পরিবার প্রধান।

দেয়ারঘাটের নিরঞ্জন দাস ও পুলিন দাস বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে সুপার মুন পূর্নিমার গোনে খোলপেটুয়া নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে যেয়ে আঘাত হানে দেয়ারঘাট বেড়িবাঁধে। এতে তাদের দুজনের বাড়ির পাশ, রণজিৎ বৈদ্য, মণীন্দ্রনাথ সানার বাড়ির পাশ ও মণীন্দ্রনাথ মন্ডলের দোকানের সামনে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে দেয়ারঘাট, দক্ষিণ জেলেখালি, জেলেখালি গ্রামের শতাধিক বসতপাড়িতে পানি ঢোকে। তলিয়ে যায় ৫০টি ছোট বড় মাছের ঘর। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকালে ভাটা শুরুর পর থেকে কাজ শুরু করার কথা বললেও শুরু করা হয় বুধবার সকাল ১০টার দিকে। স্থানীয় গ্রামবাসি তাদের বাড়িসহ পাঁচটি পয়েন্ট বাঁধ সংস্কার করতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশান অফিসার রাবি তাতে রাজি হননি। একপর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নবনিযুক্ত ঠিকাদার কাজ শুরু করতে দু’ ঘণ্টা দেরী করলে যথা সময়ে বালির বস্তা না ফেলতে পারায় সুন্দরবন ব্যাটারীর সামনে মাছের সেটের পাশ দিয়ে আরো ৩০ হাত রিংবাঁধ ভেঙ্গে যায়। জোয়ারে শুরু না হতেই ওই স্থানে ১০ হাতেরও বেশি বসে যায় প্রবল বেগেপানি ঢুকতে শুরু করে। একপর্যায়ে সদরের পশ্চিম বিল প্লাবিত হয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত পানি পোঁছায়। ফলে গত দু’দিন দু’ শতাধিক মাছের ঘর ভেসে ও শতাধিক বসত বাড়ি ভেঙ্গে গেছে। বুধবার রাত ৮টার মধ্যে ওই বাঁধ সংস্কার করা না গেলে আরো বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হবে বলে আশঙ্কা করেছেন তারা। বাঁধ সংস্কারে টাকা বরাদ্দ হলেও ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ শুরু না করায় তাদের আবারো বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হলো বলে জানান তারা।

আশাশুনি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সম সেলিম রেজা মিলন জানান, বার বার বলার পরেও দেয়ারঘাটের দুটি পয়েন্টে ৯ মাস বাঁধ নির্মান সম্ভব হয়নি। আর এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতাকে দায়ি করেন তিনি।

দেয়ারঘাট এলাকায় নদীবাঁধ সংস্কারে এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হলেও জায়কার জন্য কাজ দেরী হচ্ছে দাবি করে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রৌকশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, খুব শীঘ্র বাঁধ মেরামত করা হবে।

আশাশুনির দেয়ারঘাট রিংবাঁধ বসবাসকারি কমলা , মণীন্দ্রসহ ছয়টি পরিবার ভাঙনে অন্যত্র চলে গেছেন।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!