বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরি নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। টানা তিন দফা রিমান্ডে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার বিষয়ে দীপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলোর সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বেশ চতুর প্রকৃতির। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কৌশলে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নীরব থেকেছেন। ঘটনার পূর্বে তাহসিফ সাউরি, দীপ ও তাঁদের সঙ্গে থাকা এক তরুণীকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা ও রেস্তোরাঁয় সময় কাটাতে দেখা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও কললিস্ট বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, তাহসিফের মৃত্যুর আগে তিনি সর্বশেষ দীপ ও ওই তরুণীর সঙ্গেই ছিলেন। মামলার রহস্য উন্মোচন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিত এবং অন্য সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আসামিকে কারাগারে আটক রাখা জরুরি।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৩০ অক্টোবর তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পর তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে ৩ ও ৫ নভেম্বর যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় আরও তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া ৩১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়া তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণীকে দুই দফা রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।










