বাংলাদেশ

আইইডিসিআর পরিচালককে লাঞ্ছনা, ড্যাব নেতা জাহিদের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলাদেশ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকীকে নিজ কার্যালয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় বনানী থানায় মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতা জাহিদ হাসান ও বাসেদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বনানী থানা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী পরিচালক নিজেই বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি ড্যাবের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা জানতেন।

বুধবার আইইডিসিআরের পরিচালকের কক্ষে যখন একটি সভা চলছিল, তখন ৮-৯ জন বহিরাগত সেখানে প্রবেশ করে পরিচালককে লাঞ্ছিত করেন। ওই সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পুরো ঘটনার চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসানের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ড্যাব বুধবারই তাঁর প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করে চিঠি দিয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে সংগঠনটি। কাছে আসা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এ ঘটনা স্পষ্ট দেখা যায়। ঘটনার কিছু পর পরিচালক বলেছিলেন, ড্যাবের লোকেরা মব সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অতীতে স্বাচিপ বা এখন ড্যাবের অনেক সদস্য নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে চান। আইইডিসিআরের সাবেক তিন কর্মকর্তার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। ঘটনার জন্য তাঁরা প্রত্যেকেই দুঃখিত, মর্মাহত। ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় নিয়েছে, কিন্তু মঙ্গলের কিছু তো দেখা যাচ্ছে না।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে মহাখালীর পুরোনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন করেছেন আইইডিসিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যাদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত পৃথক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, সরকারি অফিসে চিকিৎসকের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।

পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী জানান, হামলাকারীদের মধ্যে জাহিদ ও বাসেদ ছাড়া বাকিরা তার পরিচিত নন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহিদ হাসান অতীতে আইইডিসিআরের একটি প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন।

নতুন প্রকল্পে যোগদানের চেষ্টা নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে তার মতপার্থক্য ছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে এভাবে লাঞ্ছিত করার বিচার না হলে প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফ্যাসিবাদী সরকার বিদায় নিলেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। জনস্বাস্থ্য–বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বন্ধ হবে না। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি নতুন প্রকল্পে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দিনেদুপুরে সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে তিনি সভা চলাকালে দেশি-বিদেশি মানুষের সামনে এক চিকিৎসক অন্য এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করবেন, মারধার করবেন—এটা কেউই সহজভাবে নিচ্ছেন না।