জাতীয়

তাহসিফ সাউরির শেষ সময় নিয়ে মুখ খুললেন বন্ধু দ্বীপ

জাতীয় ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার শেষ সময়ের সঙ্গী বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বীপের আহ্বানে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। দ্বীপের দাবি অনুযায়ী, রাত ১২টা পর্যন্ত তারা দুজন একসঙ্গেই ছিলেন। ঘটনার দিন তাহসিফের বাইক মেরামতের জন্য প্রথমে গ্যারেজে এবং পরে উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুক্কু’ রেস্তোরাঁয় ডিনার করেন তারা। দ্বীপ বলেন, “আমরা তার বাসা থেকে বাইকের ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম, তার বাইকটা ঠিক করতে। ওখান থেকে ব্যাক করে ডিনার করে, দেন ‘আই ওয়েন্ট হোম অ্যান্ড হি ওয়েন্ট টু আদার প্লেস’। ”। কখন আপনারা আলাদা হলেন এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “ডিনারের পর আমরা একসঙ্গে বের হয়ে যাই। মানে আমরা একসঙ্গেই বের হই, বাট বাইক দুইজন একসঙ্গে চালাতে গেলে তো আর পাশে চালানো সবসময় পসিবল না। ”। মানে যেহেতু উনি আমার বয়সে বড়, আমি সবসময় উনাকে জিজ্ঞেস করি না যে ভাই কোথায় যাচ্ছেন, এই আরকি। ”।

দ্বীপ জানান, রাতের খাবার শেষে তারা নিজ নিজ মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে বের হন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত তাদের পথ একই ছিল। তবে আনুমানিক রাত ১২টার দিকে দ্বীপ ইউটার্ন নিয়ে তার বাসার দিকে চলে যান এবং তাহসিফ অন্য পথে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দ্বীপের ভাষ্যমতে, বাইকে চলাচলের সময় দীর্ঘ দূরত্ব বজায় থাকায় তারা পাশাপাশি ছিলেন না। এ সময় তাহসিফ ঠিক কোথায় যাওয়ার কথা বলেছিলেন তা দ্বীপকে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। “মানে একটু ডিসটেন্স ছিল তার আমার মধ্যে।

তদন্তের খাতিরে এ সময় তাহসিফ কোনো অস্বাভাবিক কল বা বার্তা পেয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে দ্বীপ জানান, এমন কোনো লক্ষণ তিনি দেখেননি। সঙ্গে থাকার সময়ে তাহসিফ কোনো ‘অস্বাভাবিক কথাবার্তা’ বা ফোনকল পেয়েছিল কি না, এ ব্যাপারে দ্বীপ বলেন, “তেমন কিছুই দেখতে পাননি। ”।

তবে রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় একটি ফোন কল এসেছিল, যা তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।

এরপর ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে দ্বীপ নিজের বাসায় পৌঁছে যান। পরবর্তীতে খবরের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তার মায়ের ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাহসিফের বাসার সঙ্গে তার বাসার দূরত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কিলোমিটার, তাই ওই মেসেজ পাঠানোর আগেই তিনি নিজের বাসায় অবস্থান করছিলেন। “পরে আমি আমার বাসায় চলে আসি এবং ওই নিউজ থেকে হয়তবা শুনেছেন যে, রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তিনি তার মাকে একটা ভয়েস মেসেজ পাঠান যে, ‘আমি আসছি’।

উল্লেখ্য যে, ঘটনার পরদিন বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ পুলিশ তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান দেহ উদ্ধার করে। সিসিটিভি ফুটেজেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বীপের সঙ্গে তাহসিফের বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাহসিফের দেহ তার বাসার নিচে আনা হয় এবং স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দ্বীপের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে।