বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কলারোয়ায় গ্রাম আদালতের সমন্বয় সভা ভোমরা ইউনিয়নে এমএসপি ও এমএনপি সদস্যের দ্বি- মাসিক সমন্ময় সভা অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য পদ পেলেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান কাজী সাজেদুর রহমান দেবহাটায় অ বৈ ধ ভা বে বালু উ ত্তো ল নে জ রি মা না দেবহাটায় গ্রাম আদালতের ত্রৈমাসিক সমম্বয় সভা অনুষ্ঠিত একটি হুইল চেয়ারের জন্য বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগমের আকুতি! একমাত্র আশ্রয়স্থল বাড়ি বিক্রি করে ছেলেকে লেবাননে পাঠিয়েছিলেন কলারোয়ার ভ্যান চালক সুরঞ্জন দাস কে জানতো শুভ’র লা শ ফিরিয়ে আনতে হবে! আশাশুনিতে বিএনপি নেতাদের বি রু দ্ধে মি থ্যা অ প প্র চা রে র প্র তি বা দে সংবাদ সম্মেলন তালায় সাস’র সার্বিক উন্নয়ন কর্মসূচির উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত লেবাননে ড্রোন হা ম লা য় সাতক্ষীরার আরও এক যুবক নি হ তে র খবর

৬ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই ৭ গ্রামের মানুষের ভরসা, ঝুঁকি নিয়ে চলছে কয়েক হাজার মানুষ

✍️এস এম শহিদুল ইসলাম📝 জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের গড়ইমহল সড়কটি বিধ্বস্ত হয়েছিল ছয় বছর আগে। সেই থেকে আজ অবধি মেরামত হয়নি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। ভাঙা অংশে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোই এখন সাত গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পেরিয়ে যাতায়াত করছেন কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘ সময়েও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালে আম্ফানের সময় জলোচ্ছ্বাসের প্রবল স্রোতে গড়ইমহল সড়কের একটি বড় অংশ ধসে যায়। দীর্ঘ পাঁচ বছর ওই বিচ্ছিন্ন অংশে নৌকায় পারাপার হতে হয়েছে স্থানীয়দের। গত বছর ইউনিয়ন পরিষদের সামান্য সহায়তা ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।

​সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িকাহুনিয়া, সনাতনকাঠি, নাকনা, গোকুলনগরসহ সাতটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়ার প্রধান পথ এটি। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীরা।

​নাকনা গ্রামের বাসিন্দা ডা. নিহার সরকার বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাওয়ার প্রধান স্থলপথ এটি। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে যেতে পারছে না।”

​নিজের ভিটেমাটি হারানো রানুফা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, “ঝড়ে সব হারিয়ে ১১ মাস সাইক্লোন সেন্টারে ছিলাম। এখন সন্তানরা স্কুলে যেতে পারে না রাস্তার অভাবে। চেয়ারম্যান একটা সাঁকো দিছেন, কিন্তু বর্ষায় এটা টিকবে কি না জানি না। আমরা শুধু একটা নিরাপদ রাস্তা চাই।”

​আরেক বাসিন্দা খালেক গাজী বলেন, “অসুস্থ হলে কাউকে হাসপাতালে নেওয়ার উপায় নেই। আমাদের মনে হয় আমরা কোনো অন্ধকার জনপদে বাস করছি। দুর্যোগ হলে পরিবার নিয়ে বের হওয়ার পথটুকুও বন্ধ।”

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে পড়লে বৃদ্ধ ও শিশুদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বারবার আবেদন করেও স্থায়ী কোনো প্রতিকার মিলছে না।

​প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, “প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। এখানে একটি কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত এটি বাস্তবায়ন করা জরুরি।”

​তবে বাজেট স্বল্পতাকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “জায়গাটি অনেক গভীর হয়ে যাওয়ায় সেখানে মাটি ভরাট করা বেশ ব্যয়বহুল। আপাতত প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অস্থায়ী ভাসমান সাঁকো করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

​প্রশাসনিক এই ‘বরাদ্দ’ আর ‘আশ্বাসের’ মারপ্যাঁচে সাত গ্রামের মানুষের ভাগ্যে কবে একটি পাকা রাস্তা জুটবে, সেই উত্তর জানা নেই কারও। আপাতত জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোতে চলছে তাঁদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!