শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেবহাটার ডিআরআরএ এর উদ্যোগে দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ উদ্বোধন সাতক্ষীরায় হরিজন জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবী ‎ গোবিপ্রবি ও ঢাবির উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের মধ্যে গবেষণা সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর  সাতক্ষীরায় বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃ ত্যু সাতক্ষীরায় ভ্যান চু রি র সময় দুই যুবক আ ট ক, পুলিশে সো প র্দ আশাশুনির মাদ্রাসার মুহতামিমের বি রু দ্ধে মি থ্যে অ প প্র চা রে প্র তি বা দে সংবাদ সম্মেলন সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই বোতলজাত সোয়াবিন তেল খেতে হবে- ড. মোহাম্মদ শোয়েব প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপিকে দেখতে গেলেন  আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা শ্যামনগর থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাচারকালে জব্দকৃত ৫০ বস্তা শামুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত 

তালার সুড়িখালি বিলে জলাবদ্ধতা, আমন আবাদ অনিশ্চিত

✍️গাজী জাহিদুর রহমান📝নিজস্ব প্রতিবেদক☑️
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩
  • ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সুড়িখালি বিলের প্রায় ৬শ’ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজ স্বার্থে বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ রাখায় ওই বিলটি গত প্রায় ১৫দিন জলাবদ্ধতা হয়ে পড়েছে। এতে হুমকির মধ্যে পড়েছে ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা। একইসাথে বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র কৃষকসহ জমি মালিকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালার খেশরা ইউনিয়নের মুড়াগাছা মৌজার বিশাল এলাকা জুড়ে সুড়িখালি বিল। এ বিলে প্রায় দুইশত কৃষকের ৬শ’ বিঘার মতো কৃষি জমি রয়েছে। বেশিরভাগ জমিতে আমন এবং বোরো চাষ হয়। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে ধানের আবাদ নষ্ট হয়ে যায়। বিলটি খেশরা ইউনিয়নের মুড়াগাছা গ্রাম থেকে পশ্চিমে দরমুড়াগাছা পর্যন্ত এবং দক্ষিণে মুড়াগাছা থেকে উত্তরে শালিখা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুড়িখালি বিলের সামান্য অংশে মাছের ঘের। বেশিরভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়। সম্প্রতিকালের অতি বৃষ্টিতে বিলটি সম্পূর্ণ ডুবে আছে। এই ঘটনার নেপথ্যে- সরকারি বন্দোবস্ত পাওয়া খাস জমি অবৈধভাবে বিক্রি করার পর প্রভাবশালীরা ওই জমির উপর বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াকে দায়ী করছে ভুক্তভোগী চাষীরা।
ভুক্তভোগি কৃষক আছাফুর সরদার, সুমন সরদার, শহিদুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ সেন, মতিয়ার সরদার, পলাশ সরদার, জহুরুল শেখসহ কয়েকজন জানান, বিলের ৩০৫১ দাগের ৬৬ শতক জমি বিগত ১৯৮৮-৮৯ সনে সরকার মুড়াগাছা গ্রামের ভুমিহীন গোসাই অধিকারীকে বন্দোবস্ত দেয়। উক্ত গোসাই অধিকারীর পুত্র কার্তিক অধিকারী বিগত ১০বছর পূর্বে মুড়াগাছা গ্রামের মৃত সৈয়দ নুরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ সেকেন্দারের কাছে সরকারি বন্দোবস্তের নিয়ম লংঘন করে বিক্রি করে। পরে সৈয়দ সেকান্দার ওই ক্রয়কৃত জমিতে বাঁধ তৈরি করে বিলের পানি অপসারণে বাধা সৃষ্টি করেছে।

এবিষয়ে উক্ত বিলের জমি-জোতদারগণ তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করলে তিনি সংশ্লিষ্ট খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে পানি অপসারণের জন্য পাইপ স্থাপনের নির্দেশ প্রদান করেন। জমি-জোতদারগণ পাইপ স্থাপন করতে গেলে সৈয়দ সেকান্দার গং সেই পাইপগুলো স্থাপনে বাধা প্রদান করে। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান উক্ত স্থানে উপস্থিত হয়ে ২/১ দিনের মধ্যে পাইপ স্থাপনের জন্য সময় চেয়ে নেন। এ নিয়ে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ঘের ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় সৈয়দ সেকেন্দার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অপরদিকে সুড়িখালি বিলসংলগ্ন পিচরাস্তার উত্তর পার্শে ২৬২০ দাগের সরকারি বন্দোবস্তকৃত ৯৯শতক জমিতে মৎস্যচাষ করে মুড়াগাছা গ্রামের মৃত বারিক সরদারের ছেলে তৈয়ব সরদার। সরকার তাকে ৯৯শতক জমি বন্দোবস্ত দিলেও তিনি ওখানে শালিখা নদী সংযোগ খালের ৫০শতকসহ প্রায় ১৪৯শতক জমি আওতাধীন রেখে মৎস্য চাষ করেন। যে কারণে বিলের ওই অংশ দিয়ে শালিখা নদীতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় সুড়িখালি বিল জলাবদ্ধ হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে বিল সংলগ্ন দক্ষিণ প্রান্তের অন্তত ১শ’ কাঁচাবাড়ি ধ্বসে পড়েছে।

খেশরা ইউনিয়নের মুড়াগাছা গ্রামের কৃষক মিরাজ সরদার জানান, বিলে তাদের ৫ বিঘা জমি রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে কোন কিছুই চাষাবাদ করা যায় না। আবার বৃষ্টি হলে অনেক সময় ধান ঘরে তুলতে পারেন না, জমিতেই নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় ধান ঘরে তুলতে পারলেও পানিতে নষ্ট হওয়ায় ফলন কম হয়।
সুড়িখালি বিল এলাকার কৃষক নুর মোহাম্মদ সরদার, আলাউদ্দিন সরদার, নাসির সরদার, উজ্জ্বল অধিকারী, খোরশেদ সরদারসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিলে আমন ধান আবাদের আগমুহূর্তে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় আমন চাষ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এনিয়ে বহু জায়গায় ধর্ণা দিলেও সংশ্লিষ্ট কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

খেশরা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ ওয়াদুদ জানান, সুড়িখালি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পুরাতন খালটি পুনঃখনন করা প্রয়োজন, যেটা শালিখা নদীতে গিয়ে পড়বে। তবেই বিলসহ পুরো এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে।’

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যুগ যুগ ধরে জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি থেকে যাচ্ছে বিলের জমি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি আগামী মঙ্গলবার তার অফিসে বসে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে কৃষকদের দাবির সাথে একমত পোষণ করে তালা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শুভ্রাংশু শেখর দাশ বলেন, বিলটি দুই ফসলি। এটি জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করতে পারলে বোরো ও আমন দুই মৌসুমেই যথাযথ আবাদ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!