খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত মেলান। আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ||।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেন, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যা পুরো বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হবে। তিনি বলেন, “একদিন বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যাকে বিশ্বের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। তখন অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না, বরং বিশ্ববাসীই বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে।” বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।
শিশু-কিশোরদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি এবং আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদেশি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমরাই এই দেশের মালিক এবং একেকজন অ্যাম্বাসেডর।”
বিকেল পৌনে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের সূচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এবারের আয়োজনে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য মোট ১০টি ক্রীড়া ইভেন্ট রাখা হয়েছে। এর আগে গত ২ মে সিলেটে এই প্রতিযোগিতার প্রথম আসর শুরু হয়েছিল। শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় প্রতিযোগিতার ১০টি ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন প্রধানমন্ত্রী। দেশের অন্যান্য শিশু-কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে। ”।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এটি মূলত বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের একটি প্রতিশ্রুতি। জানা গেছে, এবার সারা দেশ থেকে মোট ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। আগামী জুনে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে ১৬ লাখের বেশি শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগামী জুনে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে খেলাধুলার পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির বাইরে আরও ছয়-সাতটি ভাষার মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, পড়ালেখা, খেলাধুলা ও ভাষাগত দক্ষতায় যারা এগিয়ে থাকবে, তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া কেউ রোধ করতে পারবে না।
তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে বলেন, “তোমরা পড়ালেখা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা আইনজীবী হতে পারো, কিন্তু তার পাশাপাশি আর্ট, কালচার ও খেলাধুলা সম্পর্কেও জানতে হবে। শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় বিশ্ব জয় করা কঠিন, সব ক্ষেত্রে পারদর্শী হতে হবে। তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নাচ ও গান ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও প্রধানমন্ত্রী উপভোগ করেন। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীকে দেখে করতালির মাধ্যমে অভিবাদন জানালে তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহফুজুল আলম খান এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। অনুষ্ঠান শেষে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সকাল থেকেই রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে। রূপসা বাইপাস ও পাওয়ার হাউস মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসবের আমেজ দেখা যায়। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার সুযোগ পান।
উল্লেখ্য, খুলনায় আসার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরে পৌঁছান। সেখানে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিআরসিসি) এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।







