জাতীয়

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির অঙ্গীকার

জাতীয় ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার ও অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার সকালে টোকিওতে অবস্থিত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। আলোচনার পর নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে তাকাইচি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা ও অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারের রাষ্ট্রগঠন ও সার্বিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় জাপান জোরাল সমর্থন দিয়ে যাবে। এছাড়া অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এফওআইপি) গড়ে তুলতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব ও অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘বিগ-বি’ ধারণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনা হয়। সানায়ে তাকাইচি জানান, বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কাঠামোকে যৌথ সমৃদ্ধির জন্য ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামক একটি নতুন কৌশলে উন্নীত করতে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এই বৃহৎ পরিকল্পনার আওতায় বিদ্যুৎ, তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি, শিল্প খাত এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৭ কোটি মানুষের বিশাল বাজার এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী কৌশলগত অবস্থানের কারণে জাপানের অর্থনীতির কাছে বাংলাদেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর জাপানের দ্রুত স্বীকৃতি প্রদান এবং শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাপানের ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের প্রতি সবসময় বিশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে।

বৈঠক পরবর্তী যৌথ বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে সানায়ে তাকাইচি নিশ্চিত করেন, নতুন এই কৌশলগত কাঠামোর অধীনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের যৌথ অংশগ্রহণে দুই দেশ একসঙ্গে এগিয়ে যাবে। এই ঘোষণার অংশ হিসেবে জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে। এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে অন্তত দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একসঙ্গে আমরা আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হব।

প্রস্তাবিত ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে—যেখানে রয়েছে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক নানা ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতি নির্ধারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।