বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশাল ভূসম্পত্তির একটি বড় অংশ বর্তমানে বেদখল অবস্থায় রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের মোট ৬৩ হাজার ৭২ একর জমির মধ্যে ৩ হাজার ২৪ একর জমি বেদখলে আছে। সোমবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানায়, বেদখলে থাকা এই জমি উদ্ধারে নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদীয় কমিটির সূত্র জানায়, ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে রেলওয়ের জমি–সম্পর্কিত তথ্য চেয়েছিল সংসদীয় কমিটি। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে রেলওয়ের মোট জমি, ইজারাকৃত জমি, ইজারাকৃত আয়, অবৈধ দখলকৃত জমি এবং ভূমি–সংক্রান্ত মামলাবিষয়ক প্রতিবেদন দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, আবদুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ও মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রেলওয়ের ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি বর্তমানে ইজারা দেওয়া আছে। গত অর্থবছরে এই ইজারা থেকে আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা মেনে রেলওয়ের অব্যবহৃত জায়গা লিজ বা লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে পরিকল্পিত ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু হয়েছে, যা জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পশ্চিমবঙ্গের পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগে বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে বেদখল হওয়া সব জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় রেলভূমিতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন জেলাগুলোর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে রেলভূমিতে সম্ভাব্য সংঘটিত মাদক–সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে সহজ ডটকমের অধীনে থাকা এই সেবা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান ভেন্ডরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে রেলওয়ে। ই-টিকিটে কালোবাজারি ঠেকাতে প্রতিদিন ১০ শতাংশ হারে টিকিট ছাড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ই–টিকিটে কালোবাজারি বন্ধ করতে যাত্রার ১০ দিন আগে একই দিনে সব টিকিট অনলাইনে না ছেড়ে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে টিকিট ছাড়ার পরামর্শ দেন একজন সদস্য।
ট্রেন পরিচালনা ও লোকোমোটিভ সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোকপাত করা হয়েছে। বর্তমানে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকটে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমেছে। তবে ৩০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ৬০টি লোকোমোটিভ যুক্ত হলে কনটেইনার, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। সাম্প্রতিক সময়ে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে।
যাত্রীসেবা বাড়াতে রেলওয়ের বহরে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ কোচ যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি কোচ ইতিমধ্যে হাতে পাওয়া গেছে। এই কোচগুলো আসার পর মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়।








