সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর আধিপত্য বজায় রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শুরুর দিকে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিলেও পরে সেই ছন্দ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় সেশনে ৯৪ রান যোগ করা ক্যারিবিয়ানরা চা-বিরতি পর্যন্ত ৫৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮০ রান সংগ্রহ করেছে। জাঙ্গুকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে।
সকালে তাসকিন দুটি এবং হাসান একটি উইকেট নিলে মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সেখান থেকে আমির জাঙ্গু ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। লাঞ্চের আগে অবিচ্ছিন্ন থেকে এই জুটি ৫৯ রান যোগ করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় সেশনেও তারা ব্যাট হাতে দাপট বজায় রাখে এবং মোট ১৩১ রানের জুটি গড়ে তোলে। লাঞ্চে যাওয়ার আগে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৫৯ রান। দুজন মিলে যোগ করেন ১৩১ রান। টেস্ট অভিষেকেই ফিফটি তুলে নেন উইকহ্যাম। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দ্বিতীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। জাঙ্গুর সঙ্গে তাঁর ১৩১ রানের জুটি ভাঙলেও ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন দুজন।
অভিষিক্ত উইকহ্যাম নিজের প্রথম টেস্টেই অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। অন্যপ্রান্তে আত্মবিশ্বাসী জাঙ্গু সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, যিনি বর্তমানে ৭৬ রানে অপরাজিত আছেন। এক পর্যায়ে হাসানের বলে জাঙ্গুর ক্যাচ ছাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। অবশেষে হাসান মাহমুদের বলেই লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ৬১ রান করে মাঠ ছাড়েন উইকহ্যাম। ৬১ রান করে থামতে হয় তাঁকে। অন্য প্রান্তে জাঙ্গুও খেলেছেন আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং। ফিফটির পর এগিয়ে গেছেন সেঞ্চুরির পথে। হাসান মাহমুদের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি এই বাঁহাতি।
চা-বিরতির সময় উইকহ্যামের বিদায়ে ভাঙা জুটির পর জাঙ্গুর সঙ্গী হিসেবে ক্রিজে আছেন জাস্টিন গ্রিভস, যিনি ১৬ রানে অপরাজিত। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ও হাসান দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। প্রথম টেস্টের মতো এই ম্যাচেও স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি।










