চট্টগ্রাম

সরাইলে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা: বাজিমাত করছেন হবিগঞ্জের শৌখিন মৎস্যশিকারি

চট্টগ্রাম ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়ার বীরেশ দিঘিতে আজ শুক্রবার দিনব্যাপী বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সোয়া ছয়টায় শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে জনপ্রতি ২৬ হাজার টাকা মূল্যের টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে মোট ২৪ জন প্রতিযোগীকে। সব মিলিয়ে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে আয়োজকদের আয় হয়েছে ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিযোগীদের জন্য মোট ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার পাঁচটি আকর্ষণীয় পুরস্কার রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে জনপ্রতি ২৬ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এতে অংশ নিয়েছেন ২৪ জন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিঘির চারপাশে লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ২৪টি মাচায় বসে মাছ ধরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন শৌখিন শিকারিরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে আসা শিকারিরা তাদের সরঞ্জাম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিযোগীদের একজন জানান, টিকিটের মূল্য ছাড়াও মাছ ধরার আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও খাবার তৈরিতে আরও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। দিঘিতে ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ অবমুক্ত করা আছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। লটারির মাধ্যমে তাঁদের আসন ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। মাঝেমধ্যে কোনো মাচা থেকে ‘বড় মাছ, বড় মাছ’ বলে চিৎকার উঠছে। হইহুল্লোড় করছেন শিকারি ও তাঁদের লোকজন। দিঘির চারপাশে ভিড় করেছেন দর্শকেরা।

বেলা দুইটা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন। সকাল সাতটা থেকে দুপুর দুইটার মধ্যে তিনি যথাক্রমে ৬ কেজি ৭৪০ গ্রাম, ৬ কেজি ৪৮৫ গ্রাম, ৪ কেজি ৯৭০ গ্রাম ও ৪ কেজি ৫০ গ্রাম ওজনের চারটি কাতলা মাছ ধরেছেন। এই সাফল্যের ফলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পঞ্চম স্থান এখন তাঁর দখলে। একই গ্রামের সবুজ মিয়া ৪ কেজি ৯০ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরে আপাতত চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর ধরা কাতলাটির ওজন ৪ কেজি ৯০ গ্রাম।

পুরস্কারের তালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারীর জন্য ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় ১ লাখ, তৃতীয় ৫০ হাজার, চতুর্থ ৪৫ হাজার এবং পঞ্চম স্থান অধিকারীর জন্য ৪০ হাজার টাকা পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে। সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্পের আয়োজনে প্রতিবছর এমন বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সমিতির সভাপতি আলী মিয়া জানান, এটি এ বছরের সপ্তম আসর। কেউ যদি প্রথম তিনটি পুরস্কার এককভাবে জিতে নিতে পারেন, তবে তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জিতে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।