ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালতে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, আদালতে পরীমনির সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং অনেককে আদালতকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এতে তাঁর মাথা থেকে রক্ত বের হতে থাকে।
ভুক্তভোগী মো. সুজন নামের এক বিচারপ্রার্থীর বড় ভাই জানান, তাঁরা পারিবারিক একটি জমিসংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পরীমনির দেহরক্ষীরা তাঁদের ধাক্কা দেন এবং এক পর্যায়ে সুজনের মাথায় আঘাত করলে রক্তপাত শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই তখন ভুক্তভোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এদিন পরীমনির সঙ্গে কালো পোশাক পরা ১১ জন দেহরক্ষী ছিলেন।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্যক্তিগত গাড়িতে আদালত চত্বরে পৌঁছালেও পরীমনি গাড়ি থেকে নামেন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে। আদালতকক্ষে যাওয়ার পথে তিনি বেশ কয়েকবার বিভ্রান্তির শিকার হন। প্রথমে ভুল আদালতকক্ষে প্রবেশ করলে আইনজীবীর সহকারীর মাধ্যমে তিনি সঠিক কক্ষের খোঁজ পান। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে সংশ্লিষ্ট আদালতে পৌঁছে তিনি পেছনের সারির বেঞ্চে বসেন। শুনানির সময় আদালতকক্ষে অতিরিক্ত ভিড় ও হট্টগোল ছিল বলে জানা গেছে। তাঁর আইনজীবীর সহকারী সেখানে গিয়ে অন্য আদালতে শুনানি হওয়ার কথা জানালে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। এরপর আরেকটি আদালতকক্ষে গিয়ে সেখানেও শুনানি হবে না জানতে পেরে একতলা নিচে সংশ্লিষ্ট আদালতে যান।
পরীমনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় গত বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য থাকলেও পরীমনি অনুপস্থিত ছিলেন। ২০২২ সালের ৬ জুলাই মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ।
আদালত তাঁর সময়ের আবেদন নাকচ করে জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
এই মামলায় ২০২১ সালের জুন মাসে ঢাকা বোট ক্লাবে গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারার অভিযোগ আনা হয়। পাল্টা হিসেবে এর আগেই নাসিরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন পরীমনি। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি নাসিরের মামলায় অভিযোগ গঠনের দিনেও পরীমনি অনুপস্থিত থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত দাবি করেন, তিনি সরেজমিনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেখেননি। তিনি আরও বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব ছিল। পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমনির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আইনজীবী জানান, প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কী ঘটেছে, তা তিনি খেয়াল করেননি। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ হয়ে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। পরীমনির আইনজীবী আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল আগের দিন অসুস্থ থাকায় হাজির হতে পারেননি। এসব অভিযোগের বিষয়ে নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, ‘আমি এ ধরনের ঘটনা দেখিনি। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, ‘পুলিশ যদি ঠিকমতো নিরাপত্তা দিত, তাহলে আপনাদের সঙ্গে এবং আমার আসামির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা ঘটত না।
অন্যদিকে, গাড়ি থেকে নামার সময় পরীমনিকেও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়। তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়।’ ওই ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে দাবি করলেও পরীমনির দেহরক্ষীরা সাংবাদিক ও আইনজীবীদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অবশ্য কেড়ে নেওয়া মুঠোফোনগুলো ফেরত পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাগ্বিতণ্ডার পর পরীমনি দ্রুত গাড়িতে চড়ে আদালত এলাকা ত্যাগ করেন।








