
বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ১০ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ৫ দিনেও কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আদালতের নির্দেশে গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ থানায় এ মামলা রেকর্ড করা হয়।
মামলার আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শেখ আব্দুল্লাহর ছেলে ইব্রাহীম খলিল (২৪), একই উপজেলার ছনকা গ্রামের শেখ আব্দুর রহমানের ছেলে ও নাজিমগঞ্জ বাজারের যমুনা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী শেখ শরিফুল ইসলাম (৪২), তার স্ত্রী আসমা খাতুন (৩০), জাফর ইকবালের ছেলে হাবিবুল্লাহ (২২), চরদহা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (২২) ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্লার ছেলে হাসাইন আলী (৪০)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কালিড়ঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের ও উপজেলা সদরের একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে স্কুলে ও প্রাইভেট পড়তে যাওয়া ও আসার পথে আসামী শীতলপুর গ্রামের ইব্রাহীম খলিল প্রেমের প্রস্তাব দিতো। বিষয়টি ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা কয়েকবার ইব্রাহীম খলিলের বাবা ও স্বজনদের অবহিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহীম ওই ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুন বিকেল তিনটার দিকে বাড়ি থেকে ভ্যানযোগে বের হয়ে কালিগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিত্যানন্দ স্যারের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছানো মাত্রই সেখানে আগে থেকে প্রাইভেট কারের মধ্যে থেকে বের হওয়া ইব্রাহীম খলিল ভ্যানের গতিরোধ করে। এ সময় ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারের মধ্যে তোলে ইব্রাহীম খলিল। প্রাইভেটকারের মধ্যে চালক হিসেবে আসামী নাজিমগঞ্জ বাজারের যমুনা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী শেখ শরিফুল ইসলাম ও যাত্রীর আসনে বসে ছিলো তার স্ত্রী আসমা খাতুন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে প্রইভেটকারে করে সন্ধ্যার দিকে সাতক্ষীরা সদরের বকচরা পূর্বপাড়ার মোঃ হাসান আলীর বাড়িতে আনা হয়। পরে হাসান আলীর খাটের নীচে থাকা দা গলায় ধরে অস্ত্রের ওই ছাত্রীর কাছ থেকে দুটি নীল কাগজে সাক্ষর করিয়ে নেয় ইব্রাহীম। পরে ইব্রাহীম খলিল, শরিফুল ইসলাম ও আসমা খাতুন একত্রে ওই ছাত্রীকে নিয়ে আসামী ইব্রাহীম খলিলের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে ওই ছাত্রীকে দুই থেকে চার বার ধর্ষণ করে ইব্রাহীম খলিল। ওই স্কুল ছাত্রীকে তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে নাবালিকা ওই স্কুল ছাত্রীকে আইনজীবী হিসেবে শাহাদাৎ হোসেন, হাবিবুল্লাহ কাবিননামায় ও সাক্ষী হিসেবে হাসাইন আলী সাক্ষর করে মিথ্যা বিবাহের কাগজ তৈরি করে অপহরণ ও ধর্ষণে সহযোগিতা করেছেন। স্কুল ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ইব্রাহীম খলিলের পরিবারের সদস্যদের উপর চাপ সৃষ্টি করলে শর্তসাপেক্ষে তাকে বাবা- মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই সময় থানায় মামলা করতে না পারায় ওই স্কুল ছাত্রী বাদি হয়ে গত ২৪ নভেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় একটি মামলা (পিটিশন-৬১৭/২৪ নং) দায়ের করেন। মামলায় ইব্রাহীম খলিল, শরিফুল ইসলামসহ ছয়জনকে আসামী শ্রেণীভুক্ত করা হয়। বিচারক মাফরোজা পারভিন মামলাটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে আগামি ২০ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ি গত ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি কালিগঞ্জ থানায় রেকর্ড (৭নং) করে তদন্তভার উপপরিদর্শক শাহাদাৎ হোসেনের উপর ন্যস্ত করা হয়।
ভিকটিমের বাবার অভিযোগ মামলা রেকর্ড হওয়ার পাঁচ দিনেও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উপরন্তু আসামীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের চাপ দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর ‘২৪) সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে জানান, মামলাটি কয়েকদিন আগে রেকর্ড হওয়ার পর তার উপর হাওলা করা হয়েছে। তদন্ত অব্যহত আছে।