চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১২৬ টন আপেল ও আদা নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। পচনশীল এসব পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি, বন্দরের পণ্যজট কমানো, জায়গা খালি করা এবং সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় পাঁচটি কনটেইনারে থাকা পণ্যের মোট সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৯ টাকা ৯৭ পয়সা। নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ||। চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার রাখার স্থান।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, নিলামে তোলা পাঁচটি কনটেইনারই ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের। এর মধ্যে দুটি কনটেইনারে রয়েছে মোট ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি আপেল, যার সংরক্ষিত মূল্য ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ টাকা ৪২ পয়সা। বাকি তিন কনটেইনারে ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি আদা রয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬১ টাকা ৫৫ পয়সা। নিলামের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন জানান, পচনশীল পণ্য হওয়ার কারণে এবং বন্দরের জায়গা দখল করে রাখায় এগুলো দ্রুত নিলামে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি কনটেইনারের প্রত্যেকটিতে ২৩ হাজার ৭২০ কেজি করে মোট ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি আপেল রয়েছে। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে ২৪ হাজার ৩০০ কেজি এবং বাকি দুটি কনটেইনারের প্রত্যেকটিতে ২৭ হাজার কেজি করে আদা রয়েছে।
ইতিমধ্যে ই-নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং আগামী ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত অনলাইনে দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। নিলামে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত মূল্যের ৫ শতাংশ জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। এ জন্য যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট বা ডিমান্ড ড্রাফট কাস্টম হাউসের কমিশনার বরাবর পাঠাতে হবে। এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও দাখিল করতে হবে।
আগামী ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখায় দরপত্রগুলো উন্মুক্ত করা হবে। সর্বোচ্চ দর অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ক্রেতাকে চূড়ান্ত মূল্যের ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এরপর বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসরণ করে পণ্য খালাস করা হবে।






