সাতক্ষীরা জেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৫

সাতক্ষীরা জেলা ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভা এলাকায় ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌর শহরের স্বাধীনতা চত্বরে এ সংঘাত শুরু হয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. হোসেন মিয়া (৪০), মো. জুয়েল মিয়া (৩০), রাব্বী মিয়া (২৫), রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (২৫) এবং পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল খাঁ (৩০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান শাহিন ও সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন। এতে সিরাজুল ইসলাম ইমুকে সভাপতি ও শিমুল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্যের উপজেলা কমিটি এবং এনামুল হক আপেলকে সভাপতি ও জুয়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যের পৌর কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই কমিটি গঠনের পর থেকেই দলের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নবগঠিত কমিটির নেতারা আনন্দ মিছিল বের করলে বিপরীত পক্ষের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতা রাজু আহমেদের অভিযোগ, কালো টাকার বিনিময়ে এবং জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহম্মদ ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে যোগ্য নেতাদের অবমূল্যায়ন করে এই কমিটি দেওয়া হয়েছে। তিনি একে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ সময় হামলাকারীদের হাতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, নবগঠিত পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক আপেল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আনন্দ মিছিল বের করেছিলাম। মিছিলের শেষ পর্যায়ে এমপি মুশফিকুর রহমানের অনুসারী রাজু আহমেদের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও, কমিটি নিয়ে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।