সারাদেশ

দিনাজপুর বোর্ডে এইচএসসির পাসের হার কমে ৪৫.৯৮ শতাংশ

 সারাদেশ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন। এবারের ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫.৯৮ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫৭.৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই বোর্ডে পাসের হার ১১.৫১ শতাংশ কমেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ ফলাফলের এ তথ্য জানান।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৯১ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন, অর্থাৎ অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৩৮৯ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৫৩ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ৩৮৩ জন ছাত্র এবং ১ হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার অত্যন্ত নিম্নমুখী। এর আগে ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৭৯.৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪.৪৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭.৫৬ শতাংশ ছিল। এই ধারাবাহিকতার তুলনায় ২০২৬ সালের ফলাফল উদ্বেগজনক হারে কমেছে। বোর্ডের অধীনে ৬৬৮টি কলেজের শিক্ষার্থীরা মোট ২১৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও বেশ বড়। এ বছর এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৩২ হাজার ৪৫৯ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী। এছাড়া পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৪২ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সার্বিক এই ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে শিক্ষার মান ও পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে পুনরায় পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবে ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক মহল।