মসজিদে নববীর পরিচ্ছন্নতায় কার্পেট ধোয়া হয় যেভাবে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে দুটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যানবাহন দুটির বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে, চাকা মাটিতে দেবে গেছে। খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ। এ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স দুটি মেরামত কিংবা বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনের মূল ফটকের পাশে নীল পলিথিনের ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স দুটি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় গাড়িগুলোর রং নষ্ট হয়ে গেছে। বাইরের অংশে জমেছে ময়লা, বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ক্ষয়ের চিহ্ন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্স দুটির একটি ১৯৯৩ সালে এবং অন্যটি ২০১৪ সালে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। দ্বিতীয় অ্যাম্বুলেন্সটি ২০১৮ সালের দিকে নষ্ট হয়ে গেলে দীর্ঘদিন অ্যাম্বুলেন্স-সংকটে পড়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। পরে ২০২২ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক অতুলপ্রসাদ সরকার নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ওই অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে জরুরি রোগী পরিবহন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের স্থানান্তরে অ্যাম্বুলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো দুটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সেগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী বলেন, যথাসময়ে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে গাড়িগুলোর ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতো। তবে বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স দুটি মেরামত করে সচল করা সম্ভব কি না, তা কারিগরিভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অ্যাম্বুলেন্স দুটি এ অবস্থায় পড়ে ছিল। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অ্যাম্বুলেন্স দুটি মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা দ্রুত যাচাই করতে হবে। মেরামতের অনুপযোগী হলে সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী সেগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
জনগণের অর্থে কেনা সরকারি যানবাহন যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স দুটি নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।