প্রিন্ট এর তারিখ : ৮ নভেম্বর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ৮ নভেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরা শহরের নেট হানি গ্রুপের মালিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে তৃতীয় স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরা শহরের নেট হানি গ্রুপের মালিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে তৃতীয় স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
দেশ টাইমস- , অপরাধ ডেস্ক

মাহবুবুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাতক্ষীরা শহরের নেট হানি গ্রুপের মালিক এবং মধু ব্যবসায়ী মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি গোপন রেখে তার তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রেখে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

 

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের হিতামপুর গ্রামের শেখ শুকুর আলীর মেয়ে রিপা খাতুন এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর পারিবারিকভাবে আরেকটি বিয়ে হলেও ওই ব্যক্তির আগের স্ত্রী থাকার বিষয়টি জানার পর দ্রুত আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চুনকুড়ি গ্রামের খালেক মোল্লার ছেলে মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আমার বিয়ে হয়। তিনি সাতক্ষীরা শহরে নেট হানি গ্রুপের মালিক এবং মধুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর শহরের বাসা সুলতানপুরের গির্জার পাশে বলে আমি জানি।

রিপা খাতুন বলেন, বিয়ের আগে আমার অতীত জীবনের সব ঘটনা সিরাজুলকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমার অভিযোগ, তিনি নিজের পূর্বের বৈবাহিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। বিয়ের পর জানতে পারি, তাঁর আগে আরও দুটি বিয়ে রয়েছে এবং তাঁদের সন্তানও আছে। প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ি কক্সবাজারে। তাঁদের সঙ্গে তাঁর আইনগত বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি বলেও জানতে পারি। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে তাঁর তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে আমাকে বিয়ে করায় আমি নিজেকে প্রতারিত মনে করছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের মাত্র দেড় মাসও পূর্ণ না হতেই তিনি আমার সঙ্গে অকারণে কথা বলা ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে আমি সাতক্ষীরা শহরে তাঁর কাছে গেলে তিনি আমাকে নিজের বাসায় না রেখে সঙ্গীতার মোড়স্থ আল কাশেম হোটেলে রাখেন। সেখানে এক রাত থাকার পর মঙ্গলবার আমি বাড়িতে ফিরে যাই। এর পরদিন ২৮ অক্টোবর বুধবার আমার হাতে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পৌঁছায়। গত ২৫ অক্টোবর তিনি আমাকে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। অথচ বিষয়টি আমাকে জানাননি। এমনকি আমি তাঁর কাছে যাওয়ার পরও তিনি বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি গোপন রেখে ২৬ ও ২৭ অক্টোবর আমার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি তিনি আমার সঙ্গে সংসার করতে না চান, তাহলে বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি গোপন রেখে কেন আমার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রাখলেন? বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক। এ ছাড়া আমার কাবিননামায় উসুলের টাকা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে আমি কোনো টাকা বুঝে পাইনি। এ বিষয়ে কাবিননামায় স্বাক্ষরকারী সাক্ষীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করার দাবি জানাচ্ছি।

রিপা খাতুন অবিযোগ করে আরো বলেন, বর্তমানে সিরাজুল ইসলাম আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। একাধিকবার আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও, এমনকি নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার এবং আমার পরিবারের সম্মানহানি করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বন্ধু ও পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ফোন করে আমাকে বিরক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। বিভিন্ন লোকজনকে দিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, যাতে আমি আইনের আশ্রয় নিতে সাহস না পাই। এসব ঘটনায় আমি নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি।

তিনি বলেন, আমি একজন নারী হিসেবে আমার সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাই না। আমার সঙ্গে যদি কোনো অন্যায় ও প্রতারণা হয়ে থাকে, তাহলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার চাই।

 

তিনি এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।