প্রিন্ট এর তারিখ : ৮ নভেম্বর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ৮ নভেম্বর ২০২৬

দেবহাটায় শামীমকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু’র আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

দেবহাটায় শামীমকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু’র আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
দেশ টাইমস- , আইন-আদালত ডেস্ক

রঘুনাথ খাঁ, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে মানসিক রোগী ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে তিন দফায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনা আসামী যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

রবিবার (০৮ নভেম্বর ‘২৬) বিকেলে সাতক্ষীরার আমলী আদালত -৩ এর বিচারক নূসরত জাহানের খাস কামরায় তিনি এ জবানবন্দি দেন।

সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবাহাটা উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে ও পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক আল আমিন জানান, বড় শান্তা গ্রামের সামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহিদুজ্জামানকে পিটিয়ে হতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ২ নং আসামী সাদিকুল ইসলাম ভদু গত ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন না’মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ধরণের একটি স্পর্শকাতর মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার আদালতে পঁাচ দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার আদালত তার তিন দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। সে অনুযায়ি রিমাণ্ড শেষে তাকে রবিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হোসেন জানান, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সাদিকুল ইসলামকে রবিবার বিকেলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রতিবেশী আবুল কাশেমের মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী ও একই এলাকার মাসুদের মোবাইল কল রেকর্ডে ধারণকৃত ধর্ম অবমাননার অভিযোগের সূত্র ধরে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত অফিসের সামনে থেকে সদলবলে ওয়াহেদুজ্জামান ওরফে মামীমের বাড়িতে হামলা, ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডাঃ এমএ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও একইদিনে পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে সখীপুর হাসপাতালের পিছনের দরজা ভেঙে সব সৃষ্টি করে পুলিশ, আনছার ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানের উপর নৃশংস নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই আব্দুল জলিল বাদি হয়ে ফজলুল হক আমিনি, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনের বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬ অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা ও ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হন। পরদিন ফজলুল হক আমিনী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।