প্রিন্ট এর তারিখ : ৮ নভেম্বর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ৭ নভেম্বর ২০২৬

টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান

টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান
, অপরাধ ডেস্ক

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানার সন্ধানে পুনরায় পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথ বাহিনী। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গীখালীর দুর্গম এলাকায় এই তল্লাশি শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে এই অভিযানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এসআরবি এবং পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন।

অভিযানে থাকা হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের পেছনের গহীন পাহাড়ে দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার একই এলাকায় মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৫৬ জনকে উদ্ধার করেছিল যৌথ বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন রোহিঙ্গা ও ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন, যাদের শুক্রবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) একই এলাকায় মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৫৬ জনকে উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।

বৃহস্পতিবারের সেই অভিযানে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আটক ছয়জনকে বর্তমানে যৌথ বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্তের স্বার্থে এবং অভিযান চলমান থাকায় আটককৃতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিজ গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলামের দাবি, গোলাগুলির সময় তিনি এলাকায় তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। তবে মরদেহগুলো পাচারকারী চক্রের সদস্য নাকি অন্য কোনো ভুক্তভোগীর, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেলেও তল্লাশিতে এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহের সন্ধান মেলেনি। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসময় পাচার চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়।

আরেক ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কক্সবাজারে ডেকে নিয়ে ওই পাহাড়ের গোপন আস্তানায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল এবং তাদের সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। বন্দিদের কাছ থেকে মুঠোফোনসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়ায় তারা বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন না। শনিবারের অভিযানে পাচারকারীদের আস্তানা থেকে রান্নার বিভিন্ন তৈজসপত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। দুইবার পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত অক্টোবর মাসেই টেকনাফ মডেল থানায় মানবপাচারের অভিযোগে তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।