প্রিন্ট এর তারিখ : ৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ৬ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে বিরোধী নেতা আইজেনকট

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে বিরোধী নেতা আইজেনকট
, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা আইজেনকটকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে নেসেটে তিনি ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মাত্র ৪৬ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। গতকাল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত।

প্রেসিডেন্ট হারজগ জানিয়েছেন, ফলাফল স্পষ্ট হলেও চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়ার আগে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী রোববার তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারেন। আইজেনকটের দল ‘ইয়াশার’ প্রেসিডেন্টকে দ্রুত সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ২০১৫ সালের পর কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এত বিপুল সংখ্যক আইনপ্রণেতার সমর্থন পাননি। তাঁর ভাষায়, সরকারে রাআমের উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের রক্ষায় মন্ত্রিসভা বা সরকার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সঠিক নয়। দলটির নেতাদের মতে, ইসরায়েলের এখন নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।

সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি অবশ্য চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। আইজেনকটকে যারা সমর্থন দিয়েছেন, তাদের মধ্যে থাকা ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিনটি দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছে। এছাড়া বিরোধী শিবিরে থাকা ইহুদি দলগুলোর ৪৮টি আসনের বিপরীতে আরবদের দল ও জোটের আসন সংখ্যা ১৯টি। ফলে এই দুই শিবিরের সমন্বয়ে সরকার গঠন করা একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরব দল ‘রাআম’-এর নেতা মনসুর আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি স্থিতিশীল সরকার দেখতে আগ্রহী।

তিনি ২০২১ সালের ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেটের সরকারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই সরকার নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের দিক থেকে বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। আব্বাস বলেন, ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেট মিলে যে সরকার গঠন করেছিলেন, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই বিবেচনাতেই সেই সরকারের সবচেয়ে খারাপ দিনও বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত থাকলেও আব্বাস সরাসরি হামাসের নাম না নিয়ে সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তাদের নিরস্ত্র করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এদিকে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকরা বর্ণবাদ, বৈষম্য ও রাজনৈতিক উপেক্ষা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে পরিবর্তন চাচ্ছেন। তাদের দলের আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি জানান, সরাসরি সরকারে অংশ না নিয়ে তারা বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ১১টি আসন নিয়ে পার্লামেন্টে তাদের সমর্থন ছাড়া কোনো সংসদীয় উদ্যোগ নেওয়া কার্যত অসম্ভব। তবে সরকারকে শুধু এক-দুই মাস টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চান না তাঁরা।

নেতানিয়াহুর অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে কারণ তার জোটসঙ্গী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেলেও ইউটিজের সাতজন আইনপ্রণেতা সরে আসায় সমীকরণ বদলে গেছে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে, যেখানে নতুন স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইয়াশার পার্টি ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো ধরনের ঐক্যের সরকার গঠন করবে না।