প্রিন্ট এর তারিখ : ৫ নভেম্বর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ৫ নভেম্বর ২০২৬

জামায়াতে হারিয়ে যাচ্ছে’ দলটি: এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন

জামায়াতে হারিয়ে যাচ্ছে’ দলটি: এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন
, এনসিপি ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যতম শীর্ষ নেতা সামান্তা শারমিন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে পদত্যাগ করে তিনি দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিনি এই আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ডিসেম্বরে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকে দলীয় কার্যক্রমে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন সামান্তা শারমিন। পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সামান্তা শারমিন আজ সন্ধ্যায় বলেন, ‘বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আমি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। এ ছাড়া দলের গ্রুপেও সবাইকে পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়েছি।’।

সামান্তা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি আত্মপ্রকাশ করলে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে গত ২৩ অক্টোবর দল পুনর্গঠন করার সময় তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়, যা অনেকের দৃষ্টিতে পদাবনতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এক ফেসবুকে পোস্টে সামান্তা শারমিন বলেছেন, এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনা করার আহবান জানানোর পরেও এনসিপি তার গতিপথ পরিবর্তন করতে আগ্রহী না হয়নি। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র হয়েছিলেন সামান্তা শারমিন।

দল ছাড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে সামান্তা জানান, নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ায় এনসিপি কার্যত জামায়াতে ইসলামীর ছায়াতলে হারিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, তরুণদের এই দলটি এখন বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের সহায়ক বা প্রতিক্রিয়ামূলক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বড় কোনো দলের অনুসারী বা ‘লেজুড়’ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলটির নিজস্ব রাজনীতির সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করেছে বলেও তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে দলের রক্ষণশীল ও নারীবিরোধী রাজনৈতিক প্রবণতা এবং কাউন্সিল না করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটিতে ‘পদাবনতির’ দুই সপ্তাহ পর দলটি ছেড়ে দিলেন তিনি।

সামান্তা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এই রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলাম, কিন্তু এনসিপি তাতে আগ্রহী ছিল না। গণতন্ত্র, নারীর সমান অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থ নিয়ে যে নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা মানুষ করেছিল, এনসিপি তার ধারেকাছেও নেই।’

নিজে দল ছেড়ে দিলেও নতুন রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সামান্তা। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, তরুণ সমাজকে এমন একটি রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে হবে যা অতীতের কোনো দলের পুনরাবৃত্তি হবে না। বরং যেখানে ভিন্নমত থাকলেও তা বিভাজনের কারণ হবে না এবং বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না।

যারা এই গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সামান্তা। তিনি বলেন, তরুণদের নিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার এই প্রকল্প তিনি এগিয়ে নিতে চান। দল ছাড়ার পর নিজের অবস্থানের কথা দলের নেতাকর্মীদের গ্রুপের মধ্যেও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।