জুবাইদা রহমান: নারীর শিক্ষা থেকে নেতৃত্বে যাওয়ার পথ সুগম করতে হবে

নারীর শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে যাওয়ার পথ আরও সহজ ও সাবলীল করার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল হলে আয়োজিত ৩০তম ইউএস ট্রেড শো-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নারীর অগ্রগতির পরিমাপ শুধু উচ্চপদে থাকা নারীর সংখ্যা দিয়ে করা সম্ভব নয়, বরং তাদের দেখে আরও কতজন নারী এগিয়ে আসতে পারছেন সেটিই প্রকৃত মানদণ্ড। সবাই মিলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বর্তমানে শহরাঞ্চল ও বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের মেয়েদের জন্য সমান সুযোগের অভাব রয়েছে।
দেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামের লাখ লাখ নারী এখনো মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন, অথচ তারা স্বাবলম্বী হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন। শিক্ষাকে নারীর ক্ষমতায়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০১২ সালের তথ্য অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মেয়ে ঝরে পড়ে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় নারীদের ভর্তির হার মাত্র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তাই ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি কর্মজীবনে প্রবেশের প্রতিটি ধাপে তাদের ধারাবাহিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরো বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
নারীর দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাক্ষরতার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এতে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দলগত কাজ ও সহমর্মিতার মতো গুণাবলি বিকশিত হয়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু উপার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সঞ্চয় ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও এর অন্তর্ভুক্ত। নারীদের কর্মক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করলেই চাকরির নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেয়েদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, আর পরিবার তাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতে পারে। নারীদের অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি যেসব প্রতিবন্ধকতা তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ কঠিন করে তোলে, সেগুলোও পরিবর্তন করতে হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমান জানান, সরকার প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের যে উদ্যোগ নিয়েছে তার ৮০ শতাংশই নারী। এছাড়াও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগ নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পারিবারিক দায়িত্ব যেন কোনো নারীর ক্যারিয়ারের পথে শাস্তি বা বাধার কারণ না হয়; এজন্য ভারসাম্য বজায় রাখা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রযুক্তির বিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ফলে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিতে নারীদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে তাদের প্রযুক্তিবান্ধব করে গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া নারীর অগ্রগতি একটি যৌথ দায়িত্ব, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আয়োজক ও আলোচকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এমন আলোচনা বাস্তবসম্মত অঙ্গীকার ও দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) প্রেসিডেন্ট রূপালী হক চৌধুরী, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও এমডি সু সিওং, ওরাকলের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা এবং মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার নাজিয়া সুলতানা।