প্রিন্ট এর তারিখ : ৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ৪ নভেম্বর ২০২৬

আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে আটক তিন শ্রমিক নেতা

আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে আটক তিন শ্রমিক নেতা
, জাতীয় ডেস্ক

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় চলমান আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা জেলা (উত্তর) পুলিশের গোয়েন্দা শাখা তাদের গ্রেপ্তার করে। গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তাদের আটক করা হয়েছে এবং বুধবার তাদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে।

আটক হওয়া তিনজন হলেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী। এর মধ্যে মো. হালিমকে আশুলিয়ার বসুন্ধরা সোনিয়া মার্কেট এলাকা থেকে এবং বাকি দুজনকে জিরাবো এলাকা থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের পাশাপাশি আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন। তিনি এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, সংলাপের পথ এড়িয়ে গ্রেপ্তার, হামলা ও মামলার আশ্রয় নেওয়া কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। বরং এ ধরনের কঠোর অবস্থান শ্রমিকদের আরও বেশি বিক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। খায়রুল মামুন বলেন, সংলাপের পথ বেছে না নিয়ে গ্রেপ্তার, হামলা, মামলা এগুলো আসলে কোনো সমাধানের পথ নয়; বরং এ ধরনের পদক্ষেপ শ্রমিকদের আরও উসকে দেবে।

খায়রুল মামুন আরও বলেন, উদ্ভূত সংকট নিরসনে শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। বলপ্রয়োগ বা দমনপীড়নের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করাই শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি। কারখানা এলাকায় বর্তমানে শ্রমিকদের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যে অসন্তোষ চলছে, তা নিরসনে কর্তৃপক্ষের আরও নমনীয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।