মিরপুরে পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভের পর সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা দুই দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর সোমবার সকাল থেকে এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে দাঙ্গা দমনের যান ও জলকামানসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকাটিতে নতুন করে কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার।
রোববারের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার জেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকাটিতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গতকালের ঘটনায় কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন করেন।
মহিদুল ইসলাম আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রোববারের ঘটনায় শুধুমাত্র শ্রমিকরাই নয়, বরং অন্য অপরাধীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে সোমবার এখন পর্যন্ত নতুন করে কাউকে আটক করা হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ আটক-গ্রেপ্তার ৪৯ জন। তবে বিভিন্ন স্থানে যাঁরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। পরে শ্রমিকেরাও বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
এর আগে রোববার ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। সকাল আটটার দিকে শ্রমিকদের অবস্থানের ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সকাল ১১টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল আটটার দিকে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে দুপুরবেলা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। এছাড়া শনিবারও একই দাবিতে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মিরপুরে নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে আলাদাভাবে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ফেসবুকে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানোর কথা জানিয়ে ‘ফেসবুকে পোস্ট’, আটক ১। পথচারী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন।