My Blog
প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইল নির্বাচন: সরকার গঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট

ইসরাইল নির্বাচন: সরকার গঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট
, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হলেও সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ধোঁয়াশা। ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন, কিন্তু কোনো দলই এককভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট—উভয়ের জন্যই সরকার গঠন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এখন নতুন জোট গড়ার লক্ষ্যে জোর আলোচনা চলছে। তবে পার্লামেন্টের আসন বণ্টনের হিসাব স্পষ্ট হলেও কে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আইজেনকোট ও তার ইহুদি মিত্রদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এই জোটের জন্য নেতানিয়াহুকে তার দীর্ঘদিনের অনুগত মিত্রদেরও ত্যাগ করতে হবে।

নির্বাচনে ১৯টি আসন পেয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখানো আরব দলগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার গঠনে মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে। হিসাব অনুযায়ী, আইজেনকোট যদি আরব দলগুলোকে সাথে নিয়ে জোট গঠন করেন, তবে ৬৭ আসনের শক্তিশালী সরকার গঠন করা তার জন্য সহজ হতে পারে। তবে ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ আরব নাগরিক, যারা মূলত ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ২০২১ সালে একমাত্র আরব দল হিসেবে যারা সরকারে যোগ দিয়েছিল, সেই জোট মাত্র ১৮ মাস টিকে ছিল। নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই আরব দলগুলোর সাথে জোট বাঁধার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তারা সরাসরি সরকারে যোগ না দিলেও বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার টিকিয়ে রাখতে পারে। তাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে ইসরাইলের ইহুদি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ তাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারে না।

বিকল্প হিসেবে নেতানিয়াহু চেষ্টা করছেন আইজেনকোটের ডানপন্থী সহযোগীদের নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে। সফল হলে তিনি ৬৭ আসনের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারেন, যেখানে আরব দলসহ উগ্র-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো বিরোধী অবস্থানে চলে যাবে। তবে এই পথটিতে সবচেয়ে বড় বাধা আইজেনকোট ও তার সহযোগীদের আগের শপথ। ২০২৩ সালের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, গণতন্ত্রের সংকট এবং দুর্নীতি মামলার অভিযোগে তারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এছাড়াও নেতানিয়াহু এসব ঘটনার রাষ্ট্রীয় তদন্তে অনিচ্ছুক, যা বিরোধী জোটের ভোটারদের অন্যতম প্রধান দাবি। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা এবং চলমান দুর্নীতি মামলার কারণে আইজেনকোট ও তার সহযোগীরা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকারে না বসার শপথ নিয়েছিলেন। তবে এই পথটিতে সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ।

নেতানিয়াহু এখন বিরোধী শিবিরের ফাটল কাজে লাগানোর কৌশল নিচ্ছেন। তিনি নাফতালী বেনেট কিংবা অবিগদোর লিবারম্যানের মতো নেতাদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা করতে পারেন। তবে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে তাদের নীতি ও অতি-অর্থোডক্সদের সামরিক সেবায় ছাড় দেওয়ার প্রশ্নে বিরোধিতার কারণে নেতানিয়াহুর সাথে তাদের ব্যক্তিগত রেষারেষি অনেক পুরনো। আইজেনকোটের জন্য অবশ্য নেতানিয়াহুর দল থেকে কাউকে ভাঙিয়ে আনা কঠিন, কারণ দলটিতে নেতানিয়াহুর প্রতি অনুগত্য অনেক বেশি।

যদি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে আগামী বছরের শুরুতেই ইসরাইলকে আবারো নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। ২০১৯ সালের পর দেশটিতে একইভাবে চরম অচলাবস্থার কারণে সাড়ে তিন বছরে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সময় পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। বিরোধী শিবিরের জন্য নতুন নির্বাচন বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে, কারণ বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভোটারের পুনরায় অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা কম। অন্যদিকে, এই অতিরিক্ত সময়টুকু নেতানিয়াহু তার জোটকে শক্তিশালী করার কাজে লাগাতে পারেন।