My Blog
প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সেঞ্চুরি করেও আক্ষেপ সাদমানের: আমরা আরও বড় স্কোর করতে পারতাম

সেঞ্চুরি করেও আক্ষেপ সাদমানের: আমরা আরও বড় স্কোর করতে পারতাম
, খেলা ডেস্ক

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলের সামগ্রিক ব্যাটিং ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। কখনো দায় স্বীকার করে নেন অকপটে, কখনো আবার হাসিমুখে দেন ব্যর্থতার ব্যাখ্যা। ওপেনিং নিয়ে কয়েক বছর ধরেই রীতিমতো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বাংলাদেশ দল।

মধ্যাহ্নভোজের আগেই দলের সাত উইকেট পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতীর্থদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন, তবে নিজের সেঞ্চুরি ছাপিয়ে তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছে দলের স্কোর আরও বড় করার আক্ষেপ। ১৭ ইনিংস পর টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া এই ব্যাটার বলেন, টপ অর্ডারের ব্যাটাররা যদি নিজেদের ইনিংস ১৫০, ১৭০ বা ২০০ রান পর্যন্ত দীর্ঘ করতে পারতেন, তবে দলের সংগ্রহ অনায়াসেই সাড়ে চারশ বা পাঁচশ রানে পৌঁছাত। সাদমান অকপটে স্বীকার করেন যে, সেখানে তাদের ভুল ছিল এবং ভবিষ্যতে বড় স্কোর গড়ার দিকেই মনোযোগ দিতে চান তারা। মধ্যাহ্নভোজের আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সাদমান ইসলাম পাশে দাঁড়ালেন সতীর্থদের। কিন্তু সব ছাপিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য হয়ে উঠল তাঁর সেঞ্চুরিটাই। ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি পাওয়ার পর স্বস্তি পাওয়ার কথা তাঁর নিজেরও। তবে আজ দিন শেষে সাদমান দিয়েছেন আরও বড় কিছুর প্রতিশ্রুতি, ‘আমরা টপ অর্ডাররা যদি এই স্কোরটা আরেকটু বড়—১৫০, ১৭০ বা ২০০ করতে পারতাম, তাহলে হয়তো দলের রান সাড়ে চার শ বা পাঁচ শ থাকত…আমাদের ভুল হয়ে গেছে। এরপর যখন এমন পরিস্থিতি আসবে, চেষ্টা থাকবে যত বড় করা যায়।’। এবারের সেঞ্চুরিটাই যেমন এসেছে ১৭ ইনিংস পর।

সাম্প্রতিক সময়ে সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষাটা বেশ দীর্ঘই ছিল। গত তিন বছরে টেস্ট ওপেনারদের মধ্যে রান সংগ্রাহকের তালিকায় সাত নম্বরে থাকলেও সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মাত্র একটি। এই সময়ে আটটি ফিফটি করার পরেও ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ তাকে তাড়িয়েছে। নিজের ত্রুটি সংশোধনে তিনি ফিটনেস এবং ব্যাটিংয়ের কারিগরি দিক নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। গত চার বছরে টেস্টে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে একশ ছাড়ানো ইনিংস কেবল একটিই—২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেনের করা জুটি। ওপেনিংয়ের এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য এখন নিয়মিত আলোচনা করছেন বলে জানান তিনি। সাদমানের তিন অঙ্কে পৌঁছানোটা তাই পুরো দলের জন্যই স্বস্তির। বিষয়টা নিয়ে নিজে ভেবেছেন, পথ খুঁজেছেন এ থেকে বেরিয়ে আসার। গত ৪ বছরে এক শ পেরোনো উদ্বোধনী জুটি একটিই; ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে সেটি গড়েছিলেন জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেন।

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের করা ২৭২ রানের বিপরীতে ক্যারিবীয়রা এখন ১৩৮ রানে পিছিয়ে আছে। দিনের শেষভাগে আলোক-স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে বাংলাদেশি স্পিনারদের তোপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল। সাদমানের আশা, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম নিখুঁত লাইনে বল করে সকালের সেশনেই প্রতিপক্ষের বাকি উইকেটগুলো তুলে নেবেন।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ম্যাচটিকে সমানে সমান লড়াই হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, বড় কোনো জুটির দেখা পেলেই তারা ম্যাচে চালকের আসনে বসতে পারবেন। স্বাগতিক বোলারদের আক্রমণের বিপরীতে বড় জুটি গড়ার লক্ষ্যেই আগামীকাল মাঠে নামবে ক্যারিবীয়রা। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি ফিল্ডারদের ক্যাচ নেওয়ার দক্ষতায় বাংলাদেশ দিনশেষে বেশ ভালো অবস্থানে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।