My Blog
প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইন্ডিয়া জোটের রামলীলা সমাবেশের প্রতি সমর্থন জানাল সিজেপি

ইন্ডিয়া জোটের রামলীলা সমাবেশের প্রতি সমর্থন জানাল সিজেপি
, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আয়োজিত আসন্ন রামলীলা ময়দানের সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনের আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন, ‘জ্ঞানুকে (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার) যেতেই হবে, দেশ সবার ওপরে।’

আগামী ১ নভেম্বর ইন্ডিয়া জোট রামলীলা ময়দানে এক বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত এসআইআর পদ্ধতি বাতিল। সামাজিক মাধ্যমে সিজেপির দেওয়া সমর্থনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলনের পাশে রয়েছে তারা। তবে এই সমাবেশে সিজেপি নেতারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি অভিজিৎ দিপকে। এক্সে দেওয়া ওই পোস্টের সঙ্গে সিজেপির সমর্থনপত্রটি দিপকে পুরোপুরি তুলে দিয়েছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতে বিরোধীদের লড়াইয়ের পাশে তাঁরা রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিজেপি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভোটাধিকারকে গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করে সংস্থাটি বলেছে, সরকার তার পছন্দ অনুযায়ী ভোটার নির্বাচন করতে পারে না। জ্ঞানেশ কুমারের এই পদক্ষেপে নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলে তারা মনে করে। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কমিশনের স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা ফেরাতে অবিলম্বে সিইসির ইস্তফা দাবি করেছে সিজেপি। সিজেপি বলেছে, গণতন্ত্রে মানুষ ভোট দিয়ে সরকার বেছে নেয়, সরকার তার পছন্দমতো ভোটার বাছবে, সেটা হয় না। এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি এসআইআর মারফত ধ্বংস করে জ্ঞানেশ কুমার তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। কোথায় নাগরিকদের জন্য ভোটদান সহজতর করে তোলা হবে, তা নয়; ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় মানুষ ভীত–সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছে।

ভারতের সংবিধান প্রণেতাদের আদর্শ স্মরণ করিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুরা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছিলেন। জাতি, ধর্ম বা আর্থিক অবস্থার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে গণতন্ত্রের মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্ত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। অথচ বর্তমান এসআইআর পদ্ধতির ফলে নাগরিকদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। তাঁদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল খুবই সহজ ও সরল, আরও অনেক বেশি মানুষকে গণতন্ত্রের মধ্যে টেনে আনা। তাঁদের গণতন্ত্রের পরিধির বাইরে রাখা নয়।

সিজেপির এই সমর্থন নতুন নয়, এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক যোগসূত্র দেখা গেছে।

সিজেপির আয়োজিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মানিক সরকারের মতো বিরোধী নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদের অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। যদিও কংগ্রেস দলীয়ভাবে সেই আন্দোলনে সরাসরি যোগ দেয়নি, তবুও সিজেপির নেতাদের গ্রেপ্তারের সময় রাহুল গান্ধী জাতীয় পতাকার সম্মানে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে সিজেপি প্রমাণ করল যে, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তাদের অবস্থান অভিন্ন।