My Blog
প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড: জুলাইয়ে হত্যাযজ্ঞ

মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড: জুলাইয়ে হত্যাযজ্ঞ
, জাতীয় ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হিসেবে বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি কে কোন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন, তা ঘোষণা করেন।

একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে মামলার চার আসামির কেউই বর্তমানে উপস্থিত নেই; তারা সবাই পলাতক রয়েছেন। আদালতের এই রায়ের আগে সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর আসামিদের দণ্ডের বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়েছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার ও জহিরুল আমিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে মাহবুবউল আলম হানিফের উসকানি ও প্ররোচনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশের কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ তৃতীয় অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় চার নেতার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এই রায় দেশের আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।