ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওহাইয়োর চিলিভিথ শহরে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমানে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেনি। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে) আয়োজিত এই সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছে ১৯৭৯ সালে এবং তা ইরানের দ্বারাই শুরু হয়েছিল। তিনি মনে করেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের অনেক আগেই এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত ছিল। ১৯৭৯ সাল থেকেই এই সংঘাতের সূচনা করেছে ইরান। তার মতে, “এই যুদ্ধ ১৯৭৯ সালে ইরান শুরু করেছিল এবং এতে অনেক আমেরিকান মারা গেছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, গত সপ্তাহে এক কংগ্রেসম্যানের কণ্ঠে তিনি শুনেছেন যে এই যুদ্ধের জন্য তিনি দায়ী নন। তার মতে, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অনেক আমেরিকান প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় তিনি ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান সোলেইমানির কথা উল্লেখ করে জানান, রাস্তার ধারের বোমাসহ নানা আক্রমণে তার নেতৃত্ব ছিল প্রধান ভূমিকা। তাদের (ইরানের) প্রিয় অস্ত্র ছিল রাস্তার ধারের বোমা, যার নেতৃত্ব দিত সোলেইমানি।
এদিকে, চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে ড্রোন উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্যমতে, বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে ড্রোন প্রস্তুতকারকরা এখন চরম সংকটে রয়েছে। এছাড়া ইরানের কাছে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ থাকলেও তা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে বলে তিনি জানান। তবে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওমান-মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছিল। এর আগেও আলোচনা চলাকালীন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনার গুঞ্জন ও চিঠি পাঠানোর বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভ্যান্সকে এমন কোনো শান্তি আলোচনা শুরুর নির্দেশ তিনি দেননি। এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, শান্তি আলোচনা পুনরুজীবিত করতে ভ্যান্স ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।